রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Election 2026) প্রথম দফার ভোটের দিন অশান্তির ঘটনায় এবার কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে এনআইএ ও সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়ে মামলা করেন আইনজীবী অনিন্দ্য সুন্দর দাস। দ্বিতীয় দফার ভোটে যাতে এই অশান্তির পুনরাবৃত্তি না হয়, মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে, মামলায় সেই আবেদনও জানিয়েছেন মামলাকারী। আগামী সোমবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আইনজীবী অনিন্দ্যর দাবি, "বজ্র আঁটুনি ফোসকা গেরো! এতো ব্যবস্থা করেও অশান্তি আটকাতে পারেনি কমিশন। প্রথম দফার ভোটের দিন কোথাও হামলা, প্রার্থীকে ধরে মারধর করা হয়েছে, ভোট চলাকালীন কোথাও বোমাবাজি, অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। ভোটের এত দিন আগে থেকে এত প্রশাসনিক রদবদল, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরও এত অশান্তি কেন!" মামলায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে এবং এই ঘটনাগুলির যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন আইনজীবী। শুধু তাই নয়, বিগত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে যাতে ভোট পরবর্তী হিংসা এড়ানো যায়, মামলায় সেই আবেদনও জানিয়েছেন আইনজীবী। তাঁর দাবি, "ইতিমধ্যেই বর্ধমান, আসানসোল, শিলিগুড়িতে ভোট পরবর্তী হিংসায় দু'জন মারা গিয়েছে।"
উল্লেখ্য, প্রথম দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণই ছিল বলে মনে করছে শাসক ও বিরোধী শিবির। কয়েকটি এলাকায় কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু তা একেবারেই বাংলার অন্যান্য নির্বাচনের অশান্তির মতো নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই অশান্তির বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হল। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার নির্বাচনে বুথের বাইরে ও ভিতরে সিসিটিভি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে শুধুমাত্র বুথে নয়, বুথে আসা-যাওয়ার রাস্তাতেও সিসিটিভি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এছাড়াও ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে বেশি করে নজরদারি চালানো হবে। এছাড়াও দ্বিতীয় দফায় মোট ২ হাজার ২৩১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
