বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, সেই কারণে তাঁর ছেলেকে তৃণমূলের লোকজন খুন করেছে বলে অভিযোগ করলেন চন্দ্রনাথ রথের মা হাসি রথ। তিনি জানান, তাঁর ছেলে নির্বাচনী লড়াইয়ে নন্দীগ্রাম, ভবানীপুর, চণ্ডীপুর-সহ বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের পর প্রতিশোধ নিতেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। তবে তিনি দোষীদের ফাঁসি চান না। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, "আমি একজন মা, চাই না দোষীদের ফাঁসি হোক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই।"
চন্দ্রনাথের মা আরও জানিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী বারংবার সকলকে সুশৃঙ্খলভাবে থাকতে বলছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের নেতারা হুমকি, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, "তৃণমূলের অনেকে গরম গরম বক্তব্য দিয়ে বলেছিল, ৪ তারিখের পর দিল্লির কোনও বাপ রক্ষা করতে পারবে না। সেটাই তারা করে দেখিয়ে দিল।"
নতুন সরকারের কাছে ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন হাসি রথ। তাঁরা বিজেপি করেন বলেই তাঁর ছেলের এই পরিণতি বলে জানান তিনি। হাসি রথের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব সামলেছেন চন্দ্রনাথ। সেই কারণে তাঁকে টার্গেট করে তৃণমূল। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই প্রতিশোধ নিতেই তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাসিদেবী।
উল্লেখ্য, বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের দু'দিন আগে বুধবার মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে পর পর গুলি করে খুন করা হয়। তাঁর পেটে-বুকে ও মাথায় গুলি লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন গাড়ির চালকও। রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী, সকান্ত মজুমদাররা। শুভেন্দু জানিয়েছে, ঠান্ডা মাথায় চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছে। এই খুনের সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে। ঘটনার তদন্তের জন্য আইজি সিআইডির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে।
