বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মঙ্গলবারই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী তথা 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খানের পার্টি অফিস ভাঙচুর করে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হল। মঙ্গলবার বিকেলে ফলতার শ্রীরামপুরে এই ঘটনা ঘটেছে। ফলতার এই অফিসে বসেই নির্বাচনী কাজকর্ম করতেন জাহাঙ্গির। মঙ্গলবার সেখানেই প্রায় শতাধিক মানুষ হামলা চালায়। 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি দিতে থাকেন তাঁরা। এরপর তৃণমূলের সেই কার্যালয়ে বিজেপির দলীয় পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
সোমবার ফলতা ছাড়া রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা আসনের গণনা হয়েছে। একমাত্র এই বিধানসভাতেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২১ মে ফলতা কেন্দ্রে নির্বাচন রয়েছে। ২৪ মে হবে ফলাফল ঘোষণা। যদিও সোমবারই গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূল সরকারের পতন হয়। এরপর থেকে দিকে দিকে তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর, হিংসার ঘটনা সামনে আসতে থাকে। এবার ফলতা থেকেও হিংসার খবর সামনে এল। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে শতাধিক মানুষ শ্রীরামপুরের ওই তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা চালায়। অফিসের শাটার, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। তৃণমূলের ব্যানার, পতাকা, ফেস্টুন ছিড়ে ফেলে দিয়ে টাঙিয়ে দেওয়া হয় বিজেপির পতাকা। দলীয় অফিসের ঠিক উলটোদিকে একটি শেডের তলায় তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করতে আসা মানুষের বসার ব্যবস্থা করা ছিল। সেখানে থাকা চেয়ারগুলিও ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। যদিও তৃণমূলের পার্টি অফিসে দলের কোনও কর্মী সমর্থক না থাকায় বড় কোনও ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ উপস্থিত জনতাকে শান্ত করে। বেশ কিছুক্ষণ ওই এলাকায় টহল দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরে তৃণমূল অফিসের গেটে তালা লাগিয়ে দেয় পুলিশ।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক সংঘাতে বরাবর তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটপর্ব সুসম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট, দুঁদে আইপিএস অজয়পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছিল। তিনি 'সিংঘম' বলেই পরিচিত। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে টার্গেট করেন অজয়। পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে জাহাঙ্গির জানান, অজয় 'সিংঘম' হলে তিনি 'পুষ্পা'। এই নিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে ফলতায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
