আদালতে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই লড়েন তাঁরা। সংবিধান রক্ষায়ও আইনজীবীদের ভূমিকা বিরাট। এবার তাঁরাই যাচ্ছেন রাজ্য বিধানসভায়। ছাব্বিশের ভোটে জিতে বিধানসভায় যাচ্ছেন বিজেপির এক ঝাঁক তরুণ আইনজীবী প্রার্থী।
এন্টালি থেকে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, দমদম কেন্দ্র থেকে অরিজিৎ বক্সী, রানিগঞ্জ থেকে লড়েছেন পার্থ ঘোষ, রাজারহাট-গোপালপুর থেকে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, বারাকপুর থেকে কৌস্তুভ বাগচী, করংদিঘি থেকে বিরাজ বিশ্বাস, জঙ্গিপুর কেন্দ্রে চিত্ত মুখোপাধ্যায় এমন কয়েকজন আইনজীবী যাঁরা ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলেন। প্রিয়াঙ্কা ছাড়া বাকি সকলেই এই নির্বাচনে জিতেছেন। এছাড়াও রাজ্যের অন্যান্য জেলায় আরও অনেক আইনজীবী প্রার্থী নির্বাচনী লড়াই করেছেন।
উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরে তৃণমূলের রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দীতা করে জেতেন বিজেপির কৌস্তভ বাগচী। ২০২৩ সালে তিনি প্রকাশ্যে মাথার চুল কামিয়ে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার ডাক দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তৃণমূল সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত মাথায় চুল রাখবেন না। তখন তিনি কংগ্রেস নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ। পরে ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন কৌস্তভ। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বারাকপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করেন তিনি। এদিন নির্বাচনে জয়লাভ করে কৌস্তভ বলেন, "বলেছিলেম এই সরকারকে উৎখাত না করা পর্যন্ত চুল রাখব না। এবার আর চুল রাখতে কোনও বাধা নেই। আমাদের এই জয়, তৃণমূলের দম্ভের পরাজয়। আমি মাথা ন্যাড়া করেছি, অনেক লাঞ্ছনা-অপমান সহ্য করেছি। মানুষ এর যোগ্য জবাব দিয়ে দিয়েছে।" অন্যদিকে নজরকাড়া কেন্দ্র ছিল, রাজারহাট-গোপালপুর। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সিকে হারিয়ে জেতেন হাইকোর্টের আইনজীবী তথা বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। অন্যদিকে দমদম কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী ব্রাত্য বসুকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন বিজেপির আইনজীবী প্রার্থী অরিজিৎ বক্সী।
এদিকে, তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মলয় ঘটক, অশোক দেবের মতো আইন পাশ করা প্রার্থীরা যেমন তালিকা ছিলেন, ঠিক তেমনই তরুণ মুখ হিসেবে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের রাজ্যের সিনিয়র স্ট্যান্ডিং কাউন্সিল পদে রয়েছেন। তবে, এবার ভোটে হেরে বিধানসভার অলিন্দে পা রাখতে পারলেন না শীর্ষণ্য। তাঁকে হারিয়ে উত্তরপাড়া থেকে জয়ী হন বিজেপির দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখিয়ে বজবজ থেকে জিতে আসন ধরে রেখেছেন অশোক দেব। এদিকে, সিপিএমের হয়ে যাদবপুর থেকে লড়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, মহেশতলা থেকে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে শ্রীজীব বিশ্বাস, হাওড়া (মধ্য) থেকে ইমতিয়াজ আহমেদ, বিধাননগর কেন্দ্রে সৌমজিৎ রাহা, কলকাতা বন্দর থেকে ফাইয়াজ খান, মেটিয়াবুরুজ থেকে মনিরুল ইসলাম ছাড়াও অনির্বাণ সরকার, রাজেশ ঘোষের মতো আইনজীবীরা নির্বাচনে লড়াই করেছেন।
