সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এক রাতের ভয়াবহ বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড়। উত্তরবঙ্গ থেকে নেপাল, মৃত্যু আর ধ্বংসের ছবি। উত্তরবঙ্গে ২০ ছাড়িয়ে গিয়েছে মৃতের সংখ্যা। নেপালে মৃত্যু ৫০ ছুঁইছুঁই। এর মধ্যেই খবর মিলেছে, তিব্বতে মাউন্ট এভারেস্টে বৃষ্টি ও তীব্র তুষারঝড়ে আটকে পড়েছেন অন্তত এক হাজার পর্বতারোহী। তাঁদের উদ্ধারে শুরু হয়েছে অভিযান। ইতিমধ্যে ৩৫০ জন এভারেস্ট ট্রেকারকে উদ্ধার করে কাছাকাছি কিউডাং শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আরও ২০০ ট্রেকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা গিয়েছে। উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামগুলির বাসিন্দারাও আগত পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরাতে সাহায্য করছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল ভয়ংকর দুর্যোগে ১০০০ ট্রেকার আটকে পড়েন। তিব্বতে এভারেস্টের পূর্ব দিকের ঢালটি পর্বতারোহীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে ভারী তুষারপাত শুরু হয় এবং ক্রমেই তা বাড়তে থাকে। চিনা সংবাদমাধ্যম একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, তীব্র তুষারঝড় চলছে। হাঁটু সমান বরফের মধ্যে কোনও মতো নিজেদের আস্তানার দিকে এগোনোর চেষ্ঠা করছেন পর্বতারোহীরা।
চিনা গণমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, তিব্বতের উদ্ধারকারী দল ‘ব্লু স্কাই রেসকিউ’-এর কাছে সাহায্য চেয়ে একটি ফোন আসে। তাদের বলা হয়, প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে ক্যাম্পের তাঁবুগুলো ভেঙে পড়েছে এবং কয়েকজন পর্বতারোহী এর মধ্যেই হাইপোথারমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর স্থানীয়দের সাহায্যে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ঘণ্টা আগেই ভয়াল তাণ্ডবলীলার সাক্ষী থেকেছে উত্তরবঙ্গের মানুষ। ধীরে ধীরে আবহাওয়ার উন্নতি হতে শুরু করেছে। মাঝে মধ্যে শিলিগুড়ি-সহ সমতলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চললেও তা নামমাত্র। কিন্তু উত্তরবঙ্গের চারপাশ জুড়ে এখনও ছড়িয়ে রয়েছে দুর্যোগের ছাপ। কোথাও নেমেছে ধস, আবার কোথাও রাস্তা ভেঙে চুরমার। জলের তোড়ে রবিবারই ভেঙে পড়ে হলং সেতু। ভেঙে পড়েছিল দুধিয়ার সেতুও। ফলে আটকে পড়েন বহু পর্যটক। যদিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। এমনকী জেসিবি গাড়িতে চাপিয়ে পর্যটকদের উদ্ধার করা হচ্ছে।
