যত দিন যাচ্ছে ইরানের মাটিতে হামলার ঝাঁজ আরও বাড়াচ্ছে আমেরিকা ও ইজরায়েল (US-Israel Attack on Iran)। সোমবার তৃতীয় দিনে পড়েছে এই যুদ্ধ। দাবি করা হচ্ছে, এই তিন দিনে ইরানে যুদ্ধের জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জন। আহত কয়েক হাজার। যত সময় যাচ্ছে, উত্তরোত্তর খারাপ আকার নিচ্ছে পরিস্থিতি। গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইরান ও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরানও।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বয়ান তুলে ধরে জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের জেরে গোটা ইরানজুড়ে এখনও পর্যন্ত কপক্ষে ৫৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সরকারি রিপোর্টে মৃতের সংখ্যা ২০০-র বেশি বলে জানানো হয়েছিল। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সেই সংখ্যা। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা ও শিশু বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন শনিবার দক্ষিণ ইরানের এক স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ১৬৫ জন বালিকার। ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে আহতের সংখ্যা। দেশজুড়ে আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার। হাসপাতালগুলিতে উপচে পড়েছে আহতদের ভিড়।
এই তিন দিনে ইরানে যুদ্ধের জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জন। আহত কয়েক হাজার।
এদিকে মার্কিন হামলার পালটা জবাবে কার্যত গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে ইরান। কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। সেইমতো রবিবার হামলা চলে আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী আক্রাহাম লিঙ্কনের উপর। সোমবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবি, কাতারের রাজধানী দোহা, এবং বাহরিনের রাজধানী মানামাতে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। গল গল করে বেরোচ্ছে কালো ধোঁয়া। ইরানের বহু ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন আকাশেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও সেগুলির ধ্বংসাবশেষ মাটিতেই পড়তেই বিস্ফোরণ ঘটছে এবং জায়গায় জায়গায় আগুন লেগে যাচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড এই হামলাকে ‘বড় আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছে।
