shono
Advertisement
US-Israel Attack Iran

ইরানের পরমাণুঘাঁটিতে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, দাবি তেহরানের, ছড়াচ্ছে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ?

সোমবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ডিরেক্টার জেনারেল রাফায়েল গ্রসি জানিয়েছেন, মার্কিন এবং ইজরায়েলি হামলায় ইরানের পরমাণুঘাঁটিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে - এমন কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 04:10 PM Mar 02, 2026Updated: 04:35 PM Mar 02, 2026

ইরানের পরমাণু ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল (US-Israel Attack Iran)। রবিবার এমনটাই দাবি করল তেহরান। এরপরই তেজস্ক্রিয় বিকিরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানের এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু নজরদার সংস্থা।

Advertisement

সোমবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ডিরেক্টার জেনারেল রাফায়েল গ্রসি জানিয়েছেন, মার্কিন এবং ইজরায়েলি হামলায় ইরানের পরমাণুঘাঁটিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে - এমন কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেহরান রিসার্চ রিয়েক্টার সবই অক্ষত রয়েছে। ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি। রাফায়েল আরও জানিয়েছেন, ইরানের কোনও পরমাণুঘাঁটি থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কোনও খবর মেলেনি। তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।তাঁর সংযোজন, "বর্তমান পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। তাই তেজস্ক্রিয়তা বিকিরণের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইরানের বড় শহরগুলির জনবহুল এলাকাগুলি খালি করা প্রয়োজন।"

বিশেষজ্ঞদের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধের জেরে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র যদি আক্রান্ত হয় তবে সেই তেজস্ক্রিয়তা শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করবে না। ভারতের বাতাস, জল ও মাটিকে বিষিয়ে তুলবে। যদি তেমনটা হয় সেক্ষেত্রে পশ্চিমা বাতাসের মাধ্যমে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে গোটা পাকিস্তান, উত্তর ও পশ্চিম ভারতে। যার ফল হবে মারাত্মক। এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হবে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা। এই দুই রাজ্য ভারতের শস্য উৎপাদন ও খাদ্যের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। পারমাণবিক দূষণের জেরে ধ্বংস হবে এই অঞ্চলের রবিশস্য। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। রেহাই পাবে না দিল্লি। এমনিতেই বিষাক্ত বাতাসের জেরে নাজেহাল অবস্থা দেশের রাজধানী দিল্লির। তার সঙ্গেই এই অঞ্চলে যুক্ত হবে তেজস্ক্রিয় বাতাস। এর ফল হবে মারাত্মক।

যুদ্ধের জেরে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র যদি আক্রান্ত হয় তবে সেই তেজস্ক্রিয়তা শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করবে না। ভারতের বাতাস, জল ও মাটিকে বিষিয়ে তুলবে। যদি তেমনটা হয় সেক্ষেত্রে পশ্চিমা বাতাসের মাধ্যমে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে গোটা পাকিস্তান, উত্তর ও পশ্চিম ভারতে।

পশ্চিমের রাজ্য রাজস্থানের জন্যও চরম বিপদ ডেকে আনবে তেজস্ক্রিয় ধূলিকনা। রাজস্থানের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এই তেজস্ক্রিয় কণা মিশবে জলাধারগুলিতে। বছরের পর বছর ধরে তা প্রভাবিত করবে সেখানকার জনগণকে। রেহাই পাবে না গঙ্গা তীরবর্তী উত্তরপ্রদেশ, বিহারকে। এই বিষাক্ত বাতাস ও তেজস্ক্রিয় কণা এই অঞ্চলের পানীয় জল ও এখানকার প্রধান শস্য ধান, গম উৎপাদনকে প্রভাবিত করবে। শুধু তাই নয়, উত্তরে হিমালয় অঞ্চলে নদীগুলিতে ছড়িয়ে পড়বে এর তেজস্ক্রিয়তা। শুধু তাই নয়, পারমাণবিক দূষণের কবলে পড়বে হিমবাহগুলি। সবমিলিয়ে এই পারমাণবিক দূষণ ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ তো বটেই, এর ভয়াবহতা দেশে তৈরি করতে পারে খাদ্যসংকট।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতের শহরগুলি পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে অন্যতম। দূষণের মাত্রাও বেশি, তার উপর পারমাণবিক বিষক্রিয়া সরাসরি প্রভাব ফেলবে ভারতের স্বাস্থ্যপরিষেবার উপর। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ যত ছড়াবে বাড়বে ক্যানসার-সহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি। তাছাড়া ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষিক্ষেত্রে এর প্রভাব আর্থিক ও সামাজিকভাবে বিপদের মুখে ফেলে দেবে ভারতকে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement