ফের যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে। পরমাণু চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে আমেরিকা। ইতিমধ্যেই ইরানের (Iran) কাছে সমুদ্রে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার জানা গেল, গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান। স্বভাবিকভাবেই এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিশ্ব। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরান যদি মাথানত না করে সেক্ষেত্রে তেহরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটার রিপোর্ট তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এফ-১৬, এফ-২২, এফ-৩৫ এর মতো একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান রওনা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের নানান সামরিক ঘাঁটিতে। তাদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে আকাশে জ্বালানি ভরার ট্যাঙ্কার বিমানও। এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, "গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০তির বেশি যুদ্ধবিমানকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।"
মধ্যপ্রাচ্যে দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে বেরিয়ে মধ্য আটলান্টিকে পৌঁছেছে এবং দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে গন্তব্যের দিকে।
ইতিমধ্যেই আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে বেরিয়ে মধ্য আটলান্টিকে পৌঁছেছে এবং দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে গন্তব্যের দিকে। এই রণতরীর সঙ্গে রয়েছে ৩টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ এবং ইউএসএস উইনস্টন চার্চিল। এছাড়া বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন ও একাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেও মনে করা হচ্ছিল, ইরানে যুদ্ধের মেঘ কেটে গিয়েছে। সরকার-বিরোধী আন্দোলনে নামা আটশোর বেশি বিদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেও তা রদ করেছিল তেহরান। মনে করা হচ্ছিল, এবার বোধহয় চূড়ান্ত পদক্ষেপের থেকে সরে আসবে আমেরিকা। তবে সে ভুল ভেঙে পশ্চিম এশিয়ায় বিরাট নৌবহর পাঠিয়েছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের প্রাক্তন সহকারী সচিব সেলেস্টি এ ওয়াল্যান্ডার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটবে ওয়াশিংটন। সেকারণেই ইরানের আশেপাশে ইতিমধ্যেই সামরিক সক্রিয়তা বাড়িয়েছে আমেরিকা।
