shono
Advertisement
Taliban

হাড়গোড় না ভাঙলে স্ত্রীকে মারধর অপরাধ নয়, গার্হস্থ্য হিংসাকে সামাজিক স্বীকৃতি তালিবানের! 

স্ত্রী-শিশুকে স্বামী বা পরিবারের কর্তা শারীরিক শাস্তি দিলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না, নয়া তালিবানি নিদান।
Published By: Kishore GhoshPosted: 05:52 PM Feb 18, 2026Updated: 06:51 PM Feb 18, 2026

তালিবান আইনে বৈধ হয়েছে মধ্যযুগীয় 'দাসপ্রথা'। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার জানা গেল, ৯০ পাতার 'ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড ফর কোর্টস'-এ গার্হস্থ্য হিংসাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। 'রাওয়াদারি' নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করেছে নতুন তালিবানি ফৌজদারি আইন। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ গোট বিশ্বের। সেখানে লেখা হয়েছে, শারীরিক নির্যাতন 'অপরাধ' গন্য হবে তখনই, যখন হাড় ভেঙে যাবে বা রক্তপাত হবে। আরও বলা হয়েছে, স্বামী বা পরিবারের প্রধান কর্তৃক স্ত্রী বা সন্তানদের শারীরিক শাস্তি অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

Advertisement

(হাড় ভাঙা বা রক্তপাতের কারণে) অপরাধ প্রমাণিত হলেও শাস্তি হবে সামান্যই। নয়া আইনে বলা হয়েছে, "অবাঞ্ছিত বল" প্রয়োগ করা হলে, আঘাতের ফলে হাড় ভাঙলে সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ড। উল্লেখ্য, আফগানি নারীর ঘর থেকে বের হওয়া নিয়ে বিদ্যমান বিধিনিষেধের কারণে আদালতে গিয়ে স্বামী বা শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রমাণ করা একপ্রকার সম্ভব নয়। যেখানে নতুন আইনে বলা হয়েছে, একজন বিবাহিত মহিলা তাঁর স্বামীর অনুমতি ছাড়া যদি নিজে পরিবারের লোকেদের সঙ্গে দেখা করেন, তাহলে তাঁর তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বলা বাহুল্য, তালিবানের নতুন আইনে লিঙ্গবৈষম্য প্রকট। নির্লজ্জ পুরুষতন্ত্রের আত্মঘোষণা।

প্রসঙ্গত, বছরের শুরুতেই জানা গিয়েছিল তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের নতুন 'ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড ফর কোর্টস'-এ বৈধ করা হয়েছে 'গুলামি' বা দাসপ্রথা। এছাড়াও একই অপরাধে ভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চারটি শ্রেণি হল ধর্মীয় পণ্ডিত (মোল্লা/উলামা), অভিজাত বা এলিট শ্রেণি, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। মানবাধিকার সংস্থা রাওয়াদারির অভিযোগ, ধর্মীয় পণ্ডিত অপরাধ করলে শুধু পরামর্শ দেওয়া হবে, অভিজাত শ্রেণিকে দেওয়া হবে তলব ও সতর্কবার্তা, মধ্যবিত্তের জন্য কারাদণ্ড এবং নিম্নবিত্তের জন্য কারাদণ্ডের সঙ্গে শারীরিক নির্যাতনের শাস্তিও দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিবানের এই নতুন আইন আফগানিস্তানে অসমতা, বৈষম্য ও ভয়ভীতিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে জায়গা করে দিচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, এই আইনের ফলে সমাজে দাসপ্রথা, লিঙ্গবৈষম্য এবং শাস্তিমূলক নির্যাতন সাধারণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement