মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা। ইরানের তরফে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবির পর এবার পালটা ইরানের একাধিক ছোট নৌযান ধ্বংসের দাবি আমেরিকার। সোমবার মার্কিন সেনার তরফে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচল জারি রাখতে ইরানের ৬টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সেনার উপর হামলার চেষ্টা করেছিল ইরান। তবে মাঝ আকাশেই ইরানের একাধিক ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
হরমুজকে মুক্ত করার লক্ষ্যে গত সোমবার থেকে 'প্রোজেক্ট ফ্রিডম' শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অভিযানের উদ্দেশ্য ইরানের হাত থেকে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর এই জলপথে তালা ঝুলিয়েছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ''আইআরজিসি আমাদের আমাদের জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন হামলা চালিয়েছিল একাধিক ছোট নৌকা ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে মার্কিন সেনা সেই হামলাকে প্রতিহত করেছে।" এই হামলাতেই ধ্বংস হয়েছে ৬টি ইরানি নৌকা।
মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ''আইআরজিসি আমাদের আমাদের জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন হামলা চালিয়েছিল একাধিক ছোট নৌকা ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে মার্কিন সেনা সেই হামলাকে প্রতিহত করেছে।"
এদিকে জানা গিয়েছে, সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল ভান্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাল ইরান। আহত হয়েছেন তিন ভারতীয় নাগরিক। আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এদিন ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪টি ড্রোন নিয়ে হামলা চালায় ইরান। রাজধানী ফুজাইরাহর প্রধান তেল ভান্ডার লক্ষ্য করে শানানো হয় আক্রমণ।তবে ঘটনায় তেল ভান্ডারের কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। যদিও এই হামলায় আহত হয়েছে তিন ভারতীয় নাগরিক। ফুজাইরাহ তেল ভান্ডারে হামলার ঘটনা প্রথম নয়। এর আগে গত ১৪ মার্চ এখানে হামলা চালায় তেহরান। যার জেরে আগুন লেগে যায় ফুজাইরাহ বন্দরে। ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে বন্দর। সেই ঘটনার পর ফের ফুজাইরাহ তেল ভান্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চলল তেহরানের।
ইরানের এই হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তাঁর এক্স হ্যান্ডলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ফুজাইরাহতে হামলায় তিন ভারতীয় আহত হয়েছেন। এটি নিন্দনীয়। জনবসতি এবং নিরীহ নাগরিকদের উপর আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’ আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তেহরান হামলার বিষয়টি সরাসরি খারিজ করেনি। মঙ্গলবার সকালে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘আমেরিকা কিংবা আমিরশাহীর পুনরায় কোনও চোরাবালিতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত।'
