দীর্ঘ উত্তেজনার পর শনিবার ইরানের মাটিতে মারণ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল (Israel Strikes Iran)। যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের। পাশাপাশি শতাধিক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এই হামলায়। রবিবার ভয়ংকর সেই হামলার প্রথম ছবি ও ভিডিও এবার প্রকাশ্যে আনল মার্কিন সেনা (যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। জানা যাচ্ছে, এই হামলায় ইরানকে তছনছ করেছে আমেরিকার বাঙ্কার ব্লাস্টার, টমাহকের মতো ভয়ংকর সব ক্ষেপণাস্ত্র।
রবিবার মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে সোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন রণতরী থেকে ইরানের উদ্দেশে ছুটে যাচ্ছে যুদ্ধবিমান। একইসঙ্গে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলি তেহরানকে নিশানায় নিয়ে ছুড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সামরিক ঠিকানাগুলিতে হামলা চালানোর ফুটেজও সামনে এসেছে। পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, 'ইরানকে লাগাতার সতর্ক করা হয়েছিল। অবশেষে সেন্ট্রাল কমান্ড দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।' পাশাপাশি আরও লেখা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন সেইমতো আমাদের সাহসী সেনা, মেরিন, সেলর, বায়ুসেনা, গার্ডিয়ান, কোস্টগার্ড যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে।'
জানা গিয়েছে, ইরানে হামলা চালাতে লুকাস ড্রোনের পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়েছে আমেরিকার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র টমাহক, F/A-18, F-35 যুদ্ধবিমান। একাধিক সংবাদমাধ্যমের তরফে জানা গিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে জিবিইউ ২৮ ‘বাঙ্কার বাস্টার’ও ব্যবহার করেছে আমেরিকা। মাটি থেকে ২০০ ফুট নিচে লুকিয়ে থাকা শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে সক্ষম এই শক্তিশালী বোমা। ভূ-গর্ভস্থ বাঙ্কার ওড়াতে এর জুড়ি নেই। ১৪ হাজার কেজি ওজনের ইস্পাতের আবরণে মোড়া এই বোমা অনায়াসে ভেদ করতে পারে পাথর বা কংক্রিট। ২৪০০ কেজি বিস্ফোরকে ঠাসা পেলোড বহন করতে সক্ষম এই বোমা। বোমার ওজন ১৩,৬০৭ কেজি। যার দৈর্ঘ্য ২০.৭ ফুট। রেডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বি ২ স্টেলথ বোমারু বিমানই বহন করে এই বোমা।
ইরানে হামলা চালাতে লুকাস ড্রোনের পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়েছে আমেরিকার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র টমাহক, F/A-18, F-35 যুদ্ধবিমান। একাধিক সংবাদমাধ্যমের তরফে জানা গিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে জিবিইউ ২৮ ‘বাঙ্কার বাস্টার’ও ব্যবহার করেছে আমেরিকা।
আমেরিকার পাশাপাশি গতকাল ইজরায়েলের সেনা আইডিএফের তরফেও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলার ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে ইজরায়েলের তরফে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে ইরানের একের পর এক ইমারত। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারপাশ।
