ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ৮৬ বছরের আলি খামেনেইর। পরবর্তী অস্থায়ী 'আয়াতোল্লা' বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেছে নিল ইরান। খামেনেইর ছেড়ে যাওয়া পদে বসছেন আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি (Ayatollah Arafi)। খামেনেই হত্যার পর সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদের বলে পরবর্তী ধাপে থাকা তিন নেতার কাউন্সিল গঠিত হয়। তিন সদস্যের কাউন্সিলের নেতৃত্ব দেবেন আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি, এমনটাই খবর।
ইরানের সংবিধান মেনে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি এজে'ই-এর সঙ্গে যৌথভাবে নেতৃত্ব দেবেন আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি। ৬৭ বছরের আরাফি ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের অন্যতম। খামেনেইর কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। সেই সূত্রেই উত্থান। এর আগে ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্স-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসাবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে ইরানের শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
এদিকে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে প্রথম বিবৃতি দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুঝিয়ে দিলেন নেতাকে হারালেও দমতে রাজি নয় তারা। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে শোকবার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, "যাঁরা এই ঐতিহাসিক অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া এবং ন্যায়বিচার পাওয়াকে আমরা নিজেদের কর্তব্য এবং বৈধ অধিকার বলে মনে করছি।" বদলা নিতে তথা মহান কর্তব্য পালন ইরান নিজেদের সমস্ত শক্তিকে কাজে লাগাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইরানের রাস্তায় উদযাপনে বেরিয়ে পড়েছেন সেখানকার সাধারণ নাগরিকদের একাংশ। নাচ-গান স্লোগানে মুখর তেহরানে যেন কার্যত উৎসবের আমেজ। এই সংক্রান্ত একাধিক ছবি এবং ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। অনেকেই দাবি জানাচ্ছেন, নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি ইরানের হাল ধরুক। খামেনেইয়ের মৃত্যুর উদযাপনে পথে নেমে পড়েছেন হাজার হাজার মহিলা। হিজাব খুলেই মেতেছেন আনন্দ উদযাপনে।
