আমেরিকা-ইজরায়েলের হানায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। ৪০ দিন ধরে রাষ্ট্রীয় শোক জারি করা হয়েছে ইরানে। তবে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর চর্চা চলছে তাঁর পড়াশোনা এবং বই পড়ার অভ্যাস নিয়ে। প্রথম জীবনে ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেছেন তিনি। কিন্তু তার বাইরেও নানা দেশের বই পড়েছেন বলে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছিলেন। তারমধ্যে অন্যতম জওহরলাল নেহরুর লেখা বই গ্লিম্পসেস অফ ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি।
রবিবার ভোররাতে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। নিজের দপ্তরে বসে কাজ করার সময়েই প্রাণ হারান তিনি। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তাঁর পুরনো সাক্ষাৎকারের বেশ কিছু ঝলক। সোশাল মিডিয়ায় খামেনেইয়ের নানা পোস্ট নিয়েও আলোচনা চলছে নেটদুনিয়ায়। সেখানেই উঠে এসেছে ২০১৩ সালের ৬ আগস্ট এক্স হ্যান্ডেলে লেখা খামেনেইয়ের একটি পোস্ট। তিনি লিখেছেন, 'নেহরুর লেখা গ্লিম্পসেস অফ ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি পড়ার আগে আমি জানতামই না, ব্রিটিশদের উপনিবেশ হওয়ার আগে ভারত এত উন্নতি করেছিল।'
এই পোস্টের কয়েকদিন পরে আরও লিখেছেন, 'নেহরু বলছেন ভারতের শিল্প মোটেও ব্রিটেনের থেকে পিছিয়ে ছিল না। কিন্তু ব্রিটিশরা এসে স্থানীয় শিল্পকে গলা টিপে হত্যা করেছে। শিল্পক্ষেত্রে ভারত আত্মনির্ভর ছিল, কিন্তু ব্রিটিশরা সেটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।' কেবল সোশাল মিডিয়ায় বক্তব্য পেশ নয়, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর লেখা বই পড়তে ইরানের আমজনতাকেও উৎসাহ দিয়েছিলেন খামেনেই। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "আজকাল কেউ বই পড়তে চায় না। কিন্তু নেহরুর গ্লিম্পসেস অফ ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি অবশ্যই পড়ে দেখা উচিত। ব্রিটিশরা ভারতে ঠিক কী কী করেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এই বইয়ে।"
খামেনেইয়ের প্রথাগত শিক্ষা কতদূর ছিল বা আদৌ ছিল কিনা, সেটা জানা নেই। তবে জেন অস্টিনের বিখ্যাত প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস পড়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। এছাড়াও মিখাইল শোলোকোভ এবং অ্যালেক্সেই টলস্টয়ের বইয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। উপন্যাস এবং কবিতা পড়তে পছন্দ করতেন। তিনি বেশ কিছু বই আরবি থেকে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।
