শান্তিচুক্তি ভেঙে হরমুজে নতুন করে হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের উপর। পরপর তিনটি জাহাজে হামলায় ক্ষুব্ধ আমেরিকা এবার ধারাবাহিক হামলা শুরু করল ইরানে। বুধবার ভোর থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে সেখানকার সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে। হামলা হয়েছে সিরিক, কেশম, বন্দর আব্বাসের মতো এলাকায়। শুধু তাই নয়, চুক্তি ভেঙে হরমুজে হামলা (Hormuz Strait Strike) চালানোয় আমেরিকার তরফে তেল বিক্রির যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল ইরানকে তা বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার সোশাল মিডিয়ায় ইরানের উপর এই হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার পর ইরানকে শিক্ষা দিতে ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়েছে। তিনটি জাহাজের উপর সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হামলা হয়েছে। ইরানের এই আগ্রাসন অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মার্কিন সেনা সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করা হয়েছে। এছাড়াও হামলা হয়েছে সিরিক, কেশম, বন্দর আব্বাসের মতো এলাকায়। এই হামলার পরে আমেরিকার বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে তেহরান।
চুক্তি ভেঙে হরমুজে হামলা চালানোয় আমেরিকার তরফে তেল বিক্রির যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল ইরানকে তা বাতিল করা হয়েছে।
জাহাজে হামলার জেরে ইরানকে তেল বিক্রির যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল সেটাও বাতিল করেছে আমেরিকা। দীর্ঘ যুদ্ধের পর গতমাসে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছিল আমেরিকা ও ইরানের। যেখানে ইরানের উপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। চুক্তিতে বলা হয়েছিল ২১ অগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহ করতে পারবে ইরান। তবে হরমুজে হামলার পর সে ছাড়পত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। যার জেরে ফের অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে।
উল্লেখ্য, সোমবার হরমুজে দু’টি জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের রেভোলিউশন গার্ড। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আরও একটি জাহাজে হামলা চালানো হয়। এই নিয়ে হরমুজে তৃতীয় কোনও জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে। হামলার জেরে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাণিজ্যতরীটি। এই ঘটনায় তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে মউ স্বাক্ষর হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল আগামী ৬০ দিন হরমুজে সমস্ত বাণিজ্যতরী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। কিন্তু তারপরেও বারবার হরমুজে আক্রান্ত হচ্ছে জাহাজ।
