সপ্তাহান্তে নজিরবিহীন হামলার সাক্ষী রইল জার্মানির বার্লিন। সমকামীদের শোভাযাত্রা চলাকালীন বড়সড় আক্রমণ। প্যারিসের নিসের কায়দায় জনতার ভিড়ের মাঝেই গাড়ি চালিয়ে দিল ঘাতক। ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৬ জন। ভিড়ে হামলা চালানোর পর অবশ্য গাড়িটি ফেলে রেখেই পালিয়েছে আততায়ী। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার পর পুলিশ তাকে চিহ্নিত করেছে। তার খোঁজে শুরু হয়েছে জোর তল্লাশি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ঘাতক ইসলামপন্থী কোনও জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। এটি 'লোন উলফ অ্যাটাক' নাকি দলগত পরিকল্পনা, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলার ফ্রেডরিখ মেরজ এই হামলার তীব্র নিন্দা করে যথাযথ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনা শনিবার রাতের। স্থানীয় সময় রাত তখন প্রায় ১০টা। জার্মানিতে 'ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে' সমকামী সমাজের অন্যতম বড় অনুষ্ঠান। সেই উপলক্ষে শনিবার রাতে মধ্য বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কে জমায়েত হয়েছিলেন সমকামী সদস্যরা। পার্কের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। আচমকাই সেই ভিড়ের মাঝে একটা সাদা গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়েন এক ব্যক্তি। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় শোভাযাত্রা। আতঙ্কে সবাই এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। আততায়ী অবশ্য গাড়িটি ফেলেই পালিয়ে যায়।
বছর দশেক আগে, ২০১৬ সালে প্যারিসের নিস শহরে বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক নিয়ে ভিড়ের মাঝে ঢুকে পড়েছিল তিউনিশিয়া বংশোদ্ভুত এক মুসলমান যুবক। রাস্তাতেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়। পালটা পুলিশের গুলিতে মারা যায় আততায়ীও। ফ্রান্সে এত বড় ইসলামিক হামলা সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেনি। এবার প্রায় সেই একই কায়দায় বার্লিনেও হামলা চলল।
২০১৬ সালে প্যারিসের নিস শহরে এভাবেই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি ঢুকে পড়েছিল ভিড়ের মাঝে, ফাইল ছবি
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বার্লিনের পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছেন, মধ্যবয়সি এক ব্যক্তি সমকামীদের শোভাযাত্রায় সাদা গাড়ি চালিয়ে ঢুকে পড়ে। তাকে চিহ্নিত করা গেলেও গ্রেপ্তার করা যায়নি। নাগালে পেতে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সবাইকে নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলার ফ্রেডরিখ মেরজ। বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে, ‘‘দোষীরা কড়া শাস্তি পাবেই।''
এখন প্রশ্ন হল, বার্লিনের মতো শহরে সমকামীদের শোভাযাত্রায় কে এমন হামলা চালাল? নিশানায় ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। তবে আততায়ীকে গ্রেপ্তার করলেই সবটা স্পষ্ট হবে বলে আশাবাদী পুলিশ। বছর দশেক আগে, ২০১৬ সালে প্যারিসের নিস শহরে বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক নিয়ে ভিড়ের মাঝে ঢুকে পড়েছিল তিউনিশিয়া বংশোদ্ভুত এক মুসলমান যুবক। রাস্তাতেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়। পালটা পুলিশের গুলিতে মারা যায় আততায়ীও। ফ্রান্সে এত বড় ইসলামিক হামলা সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেনি। এবার প্রায় সেই একই কায়দায় বার্লিনেও হামলা চলল। ফের কি পশ্চিম ইউরোপে জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত শুরু হল? আতঙ্কের আবহে প্রশ্ন তুলছেন সকলে।
