হারারে স্পোর্টস ক্লাব। এই মাঠ তার কাছে পয়া। এখানেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দেশকে জিতিয়েছিল বৈভব সূর্যবংশী। এই মাঠেই সিনিয়র দলে তার রানখরা কেটেছিল প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। নজির গড়ে বিধ্বংসী হাফসেঞ্চুরির সেই ইনিংস খেলার পর আবারও ঝড় উঠল বাঁহাতি তারকার ব্যাটে। সূর্যবংশীর ব্যাটিং বৈভবে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে ১৯২ রান তুলল শ্রেয়স আইয়ারের টিম ইন্ডিয়া।
টানা দু'ম্যাচ জিতে সিরিজ আগেই পকেটে পুরে নিয়েছিল ভারত। তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ছিল কার্যত নিয়মরক্ষার। সেই ম্যাচে টসে জিতে প্রথম ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন ভারত অধিনায়ক। এদিন প্রিন্স যাদবের পরিবর্ত হিসাবে সুযোগ পেলেন অশোক শর্মা। শুবম দুবের জায়গায় এলেন সূর্যাংশ শেগড়ে। তবে রবিবারও রানখরা কাটাতে পারলেন না অভিষেক শর্মা। ফিরলেন মাত্র ১ রানে। ব্লেসিং মুজারাবানি সামনে এলেই যেন পা কাঁপে তাঁর। তিন ম্যাচে প্রত্যেকবারই তাঁর বলেই সাজঘরে ফিরলেন 'শর্মাজি কা বেটা'। তিন ইনিংস মিলিয়ে তাঁর রানের যোগফল ২+৮+১ = ১১।
অভিষেক ফিরলেও ভারতের রানের গতি কমেনি। বৈভব ও ঈশান কিষান মিলে 'রামধোলাই' করলেন জিম্বাবোয়ে বোলারদের। ১৫ বছরের বিস্ময় তারকা প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্বাগত জানালেন সিকন্দর রাজাকে। প্রথম ওভারেই উঠল ১৭। আর পাওয়ার প্লে-তে ১ উইকেটে ৬৪। তবে এই পিচের চরিত্র কিছুটা মন্থর। তাই রান তোলা সহজ ছিল না। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে যেখানে হাফসেঞ্চুরি করতে মাত্র ১৮ লেগেছিল, সেখানে এদিন লাগল ৩১ বল। সেই সময় তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার, ২টি ছক্কা।
মারমুখী বৈভব। ছবি বিসিসিআই।
তবে অর্ধশতকের পর গিয়ার বদল বৈভবের। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ৮১ রানে ফিরল সে। ৮ বাউন্ডারি ৪ ছক্কায় সাজানো ইনিংস খেলে নয়া রেকর্ডও গড়েছে বৈভব। পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ১৬ বছর হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দু'টি হাফসেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার সে। আর সব দেশ মিলিয়ে এই কীর্তি আগে ছিল শুধু নেপালের কুশল মল্লর। এখন সেই তালিকায় যোগ হল বৈভবের নাম। অন্যদিকে, ঈশান ও শ্রেয়স সেট হয়ে আউট হলেন। তাঁদের সংগ্রহ যথাক্রমে ২৯ ও ২৭। শেষের দিকে ১৪ বলের ২৫ রানের ক্যামিও খেললেন রিঙ্কু সিং। ১১ রানে অপরাজিত থাকলেন তিলক বর্মা।
