রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে নেপালের সাধারণ নির্বাচনে কার্যত জেন জি সুনামি। নতুন প্রজন্মের দুর্নীতি বিরোধী ওই আন্দোলনের আশীর্বাদপুষ্ট রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি (আরএসপি) দেশের সাতটি প্রদেশে ১০৫টি আসনে এগিয়ে আছে। স্বভাবত বলাই যায় গৌতম বুদ্ধের দেশ রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টির 'ঘণ্টা' প্রতীকের প্রতিধ্বনিতে কাঁপছে। চিন ঘেঁষা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি (ইউনাইটেড মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) নির্বাচনে সামান্যও ছাপ ফেলতে পারেনি। জেন জি সুনামিতে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে পুরনো অন্য দলগুলোও।
নেপাল নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১০৫টিতে জেন জি প্রতিনিধি কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি এগিয়ে রয়েছে। একটিতে জয় নিশ্চিত করেছে তারা। নেপালি কংগ্রেস একটি আসন, সিপিএন-ইউএমএল ৭টি এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৯টি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে। দ্য হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে জেনারেল জেড-এর নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর জনপ্রিয়তার জোয়ারে ভর করে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নেপালের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি (আরএসপি) অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দ্য হিমালয়ান টাইমসের মতে, প্রাথমিক ভোট গণনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে দলটি সাতটি প্রদেশে কমপক্ষে ১০৫টি আসনে এগিয়ে আছে। ঝাপা-৫ আসনে কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির মেয়র বলেন্দ্র শাহ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে এগিয়ে আছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১০৫টিতে জেন জি প্রতিনিধি কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি এগিয়ে রয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের জেরে ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে দেশের নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে। সেইমতো বৃহস্পতিবার নেপালে ১৬৫টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। লড়াইয়ে ছিল ৬৫টি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে এবারের নির্বাচনে কোনও দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সন্দেহ ছিল। কেউ ভাবতে পারেননি প্রাক্তন র্যাপার বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নবগঠিত রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি (আরএসপি) সংসদীয় নির্বাচনে প্রথম সারির প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হবে। কিন্তু সেটাই হতে চলেছে। কারণ, নেপালের জেন জি-র বড় অংশের পছন্দ ছিলেন বলেন্দ্র শাহ।
গত সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি। এবার ঝাপা-৫ আসনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ওলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন বলেন্দ্র। তাঁর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে ছিল। সাধারণ নির্বাচনের আগেই নেপালি কংগ্রেসের অন্দরে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রবীণ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাকে সভাপতি পদ থেকে অপসারিত করেছিলেন ৪৯ বছরের গগন থাপা। তিনিও এ বার প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে অন্যতম মুখ ছিলেন। লড়াইয়ে ছিলেন প্রাক্তন মাওবাদী গেরিলা নেতা প্রচণ্ড। কিন্তু দুদে রাজনীতিকদের কুপোকাত করে ছেড়েছে বলেন্দ্রর রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি।
সেপ্টেম্বরে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে ওলি সরকারের পতনের পর অনেকেই বাংলাদেশের প্রভাব খুঁজে পেয়েছিলেন। যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছিল, সেই আন্দোলনের নেতারা পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে নতুন দল গঠন করেন। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সাধারণ নির্বাচনে তারা পর্যুদস্ত হয়। কিন্তু নেপালে ঠিক উলটো ছবি ধরা দিয়েছে। সেখানে প্রাথমিক গণনার পর দেখা যাচ্ছে, নেপাল আস্থা রাখছে তুলনায় নতুন দল এবং নতুন নেতার উপরেই।
