সুন্দর রূপের আড়ালে লুকিয়ে সাক্ষাৎ মৃত্যু! উত্তপ্ত বালোচিস্তানে পাক সেনার ঘাঁটিতে পরপর হামলায় অন্তত ১০০ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে বালোচ বিদ্রোহীরা। এই হামলার নেপথ্যে থাকা দুই মহিলা ফিদায়েঁ যোদ্ধার ছবি প্রকাশ্যে আনল বালোচ। এরা হলেন ২৪ বছরের আসিফা মেঙ্গাল ও যদিও দ্বিতীয় মহিলার পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
বালোচ লিবারেশন আর্মির তরফে জানানো হয়েছে, আসিফা একাই অন্তত ১০০ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছেন। অন্যদিকে, বালোচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতির দাবি, সেনা অভিযানে অন্তত ১৪০ জন বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযান চলাকালীন ১৭ জওয়ান-সহ ৫০ জনের জনের মৃত্যু হয়েছে। বালোচদের দাবি, আসিফা বালোচিস্তানের নুশকি অঞ্চলের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মহম্মদ ইসমাইল। আসিফার জন্ম ২০০২ সালের ২ অক্টোবর। নিজের ২১ তম জন্মদিনে বালোচ লিবারেশন আর্মির মজিদ ব্রিগেডে যোগ দেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালে ফিদায়েঁ হামলার ট্রেনিং নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল নুশকিতে অবস্থিত পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কার্যালয়।
পাশাপাশি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বিএলও। যেখানে ওই মহিলা যোদ্ধাকে বন্দুক হাতে অন্যান্য বিএলও সদস্যদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। হাসতে হাসতে তিনি বলছেন, "পাকিস্তান সরকার সব সময় আমাদের মা-বোনেদের উপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। ওরা আমাদের সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করছে। কিন্তু আমাদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস নেই ওদের। ওরা ভীতু-কাপুরুষ।"
আসিফার জন্ম ২০০২ সালের ২ অক্টোবর। নিজের ২১ তম জন্মদিনে বালোচ লিবারেশন আর্মির মজিদ ব্রিগেডে যোগ দেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালে ফিদায়েঁ হামলার ট্রেনিং নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল নুশকিতে অবস্থিত পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কার্যালয়।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে বালোচিস্তানের জনগণ। পাক সেনার অকথ্য নির্যাতনের প্রতিবাদে সেখানে তৈরি হয়েছে সশস্ত্র সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি। এই বাহিনীকে দমন করতে গোটা বালোচিস্তানে অত্যাচারের সীমা পার করেছে পাক সেনা। পালটা আসছে প্রত্যাঘাত। বর্তমানে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত পাকিস্তান। পাশাপাশি শাহবাজ সরকারের ঘুম ছুটিয়েছে আর এক বিদ্রোহী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান। গুরুতর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বালোচ সংগঠনও হামলার ঝাঁজ বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বালোচিস্তানে অভিযান শুরু করেছে পাক সেনা। পালটা বালচিস্তানের ৪ জেলায় অন্তত ১২টি জায়গায় আত্মঘাতী হামলা চালায় বালোচ বিদ্রোহীরা।
