হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) সঙ্গে সেলিমের বৈঠক ঘিরে সিপিএম পার্টির মধ্যে তোলপাড় চলছেই। সূত্রের খবর, এই ইস্যুতে পার্টির মধ্যে ওঠা বিতর্কের ঝড় সামলাতে রাজ্য কমিটির বৈঠক এগিয়ে আনা হতে পারে। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের বদলে দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজ্য কমিটি ডাকা হচ্ছে বলে খবর।
'সাম্প্রদায়িক' হুমায়ুনের সঙ্গে কেন সেলিম রাতের বেলা নিউটাউনের হোটেলে বৈঠকে বসলেন সেটা নিয়েই সিপিএমের বড় অংশ ক্ষুব্ধ। সেলিমকে নিশানা করে ঘরে ও বাইরে সরব এই ইস্যুতে পার্টির বিক্ষুব্ধরা। সেলিমপন্থীরা বিষয়টিকে লঘু করার চেষ্টা করলেও বিতর্ক অনেক দূর গড়িয়েছে। সামনে নির্বাচন, তাই বিতর্ক দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাইছে আলিমুদ্দিন। হস্তক্ষেপ করেছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা বিমান বসুও (Biman Bose)। রাজ্য কমিটির বৈঠকে হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সেলিমের (Md Salim) বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় যে উঠবে তা স্পষ্ট। খবর, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি-সহ কয়েকটি জেলার নেতারা রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই ইস্যুতে সরব হয়ে রাজ্য সম্পাদককে প্রশ্নে বিদ্ধ করবেন। পালটা সেলিমপন্থী রাজ্য কমিটির সদস্যরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই বৈঠকের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করতে। সেক্ষেত্রে পার্টির অতীত ইতিহাসের নানা তথ্যকে সামনে এনে সেলিমের পক্ষে তাঁরা সওয়াল করতে চান। কাজেই হুমায়ুন (Humayun Kabir) ও সেলিম বৈঠক ইস্যুতে সিপিএমের আগামী রাজ্য কমিটির বৈঠক যে সরগরম হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ইস্যুতে সেলিমকে কার্যত সেন্সর করেছে সিপিএম।
হুমায়ুনের সঙ্গে জোট নিয়ে আর কোনও কথা হোক চাইছে না সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর অন্য সদস্যরাও। কারণ, পার্টির বড় অংশ এবং বামফ্রন্টের দুই শরিক দল সেলিমের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ। আবার তার মধ্যেই শনিবার সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী তীব্র সমালোচনা করে সুর চড়িয়েছেন হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। ফলে সেলিম হুমায়ুনের উপর নরম হলেও সুজন-সহ সিপিএমের প্রবীণ নেতারা যে হুমায়ুনের উপর ক্ষুব্ধ তা স্পষ্ট। সুজন বলেছেন, কে হুমায়ুন? তাহলে পার্টি যদি হুমায়ূনকে গুরুত্ব না দেয়, সেলিম তাহলে হোটেলে তাঁর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন কেন? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এদিকে, রাজ্য কমিটির বৈঠকে সেলিমের পক্ষে সওয়াল করার জন্য সেলিমপন্থীরা যুক্তি সাজাচ্ছেন। তাঁরা বলবেন, ১) একটা বৈঠক হয়েছে মাত্র। কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। রাজনীতিতে এটা হতেই পারে। সব প্রকাশ্যে জানিয়ে করতে হবে এমন বিষয় নেই। ২) শূন্যের গেরো কাটাতেই সেলিম চেষ্টা চালাচ্ছেন। সেলিম বিরোধীরা বলবেন, ১) কেন 'সাম্প্রদায়িক' কথা বলা হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। হুমায়ুনের মধ্যে কি ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব দেখলেন তিনি। যে হুমায়ুন বলেছিল হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেবে। ২) হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেও সিপিএম সরব ছিল। হুমায়ূনকে গ্রেপ্তারের দাবিও সিপিএম নেতারা করেছিলেন। তাহলে হঠাৎ হুমায়ুন প্রীতি কেন? ৩) যে হুমায়ুন বিজেপির সাহায্যও চেয়েছিল, বিজেপি ও হুমায়ুন যোগ নিয়ে আবার সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ সমাজ মাধ্যমে পোস্টও করেছিলেন। তাহলে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক কেন হুমায়ুনের প্রতি নরম হলেন, তার মন বুঝতে একান্তে বৈঠক করলেন? এই প্রশ্ন রাজ্য কমিটির বৈঠকে তুলবেন সেলিম বিরোধীরা।
