shono
Advertisement
Balochistan

'পাকিস্তান পৃথিবীর ক্যানসার', শাহবাজ-মুনিরের বুকের উপর স্বাধীনতা উদযাপন করে বার্তা বালোচদের

১১ আগস্ট বালোচরা যাতে স্বাধীনতা দিবস পালন করতে না পারে, তার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 07:55 PM Aug 11, 2026Updated: 08:38 PM Aug 11, 2026

পাকিস্তানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পূর্ব ঘোষণা মতো ১১ আগস্ট স্বাধীনতা উদযাপন করল বালোচিস্তান (Balochistan)। আনুষ্ঠানিকভাবে এই অঞ্চল এখনও পাকিস্তানের অংশ হলেও, মঙ্গলবার বালোচিস্তানের প্রায় সর্বত্র জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীত। দীর্ঘবছর ধরে পাকিস্তান সরকারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। পাকিস্তানকে 'বিশ্বের ক্যানসার' বলা কটাক্ষ করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি।

Advertisement

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোশাল মিডিয়ায় এক বার্তা দেন বালোচ নেতা মির ইয়ার বালোচ। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 'বালোচিস্তান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ফলে আজ থেকে বালোচিস্তানকে পাকিস্তানের একটি প্রদেশ বলার পরিবর্তে এই অঞ্চলকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিক বিশ্ব।' পাশাপাশি তিনি লেখেন, 'বালোচিস্তানের জনগণের প্রতি নৈতিক সমর্থন রাখতে হবে, যাতে আমরা আমাদের মাতৃভূমি থেকে পাকিস্তান নামক ক্যানসারকে নির্মূল করতে পারি।' 'মেসেজ অফ ইন্ডিপেনডেন্স অফ থেকে রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান' নামের ওই বার্তায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিশেষ করে ভারতের সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। অভিনন্দন জানানো হয়েছে, বালোচিস্তানে বসবাসকারী বালোচ, পশতুন, হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান-সহ সকল ধর্মের মানুষকে।

বার্তা দেওয়া হয়েছে, 'বালোচিস্তান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ফলে আজ থেকে বালোচিস্তানকে পাকিস্তানের একটি প্রদেশ বলার পরিবর্তে এই অঞ্চলকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিক বিশ্ব।'

বিশ্বের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা আরও বলা হয়েছে, 'বালোচিস্তান এখন থেকে নিজের বিদেশনীতি, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমস্ত কিছু নিজেরাই সামলাবে। বালোচিস্তানের নিজস্ব পাসপোর্ট, মুদ্রা, সংবাদমধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দূতাবাসগুলি শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। পাকিস্তানের শৃঙ্খল পুরোপুরি ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে বালোচরা ঐক্যবদ্ধ থাকবে।' এদিকে বালোচদের স্বাধীনতা উদযাপন বানচাল করতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেনি পাকিস্তান। ১১ আগস্ট বালোচরা যাতে স্বাধীনতা দিবস পালন করতে না পারে, তার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা। তবে এতকিছুর পরও স্বাধীনতার উদযাপন রোখা যায়নি। তার পরও পাড়া-মহল্লা, বাজার, দোকানপাট এবং জনবহুল স্থানগুলোতে বালোচিস্তানের পতাকা উত্তোলন করে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস (১৪ই আগস্ট) বর্জন করা হয়।

কিন্তু কেন ১১ আগস্ট দিনটিকেই স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বেছে নিল বালচিস্তান? কারণ, ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট ব্রিটিশ শৃঙ্খল ভেঙে প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল বালোচিস্তান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। ইতিহাস বলে সেই সময় ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়নি। পরে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হয় এবং ১৫ আগস্ট ভারত। অতীতের সেই ইতিহাসের উপর ভিত্তি করেই ১১ আগস্ট দিনটি বালচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা হয়।

উল্লেখ্য, বালোচিস্তানের পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। বিরাট সেনাবল নিয়ে লড়াইয়ে নেমেও এই অঞ্চলে রীতিমতো নাকানি চোবানি খেতে হচ্ছে পাক সেনাকে। এই অবস্থায় পালটা গুমখুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে বিদ্রোহের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হওয়ার পর থেকেই আরও অশান্ত হয়ে উঠেছে বালোচিস্তান। অভিযোগ, খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশটিকে কার্যত লুট করছে পাক প্রশাসন। প্রতিদানে বালোচ জনতা পেয়েছে শুধু নির্যাতন ও দারিদ্র। তারই প্রতিবাদে স্বাধীনতার মরণপণ লড়াইয়ে নামে সেখানকার মানুষ। অবশেষে বালচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণায় পাকিস্তানের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, বালোচিস্তান স্বাধীন হলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পর দেশের আরও এক বড় অংশ খোয়াবে পাকিস্তান।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement