সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তবে কি আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেল পাকিস্তান? দীর্ঘ স্বাধীনতার লড়াইয়ের পর অবশেষে বড়সড় সাফল্যের দাবি বালোচ বিদ্রোহীদের। প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানের পর পাকিস্তানের সুরাব শহরের দখল নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করল বালোচ বিদ্রোহীরা। পুলিশ ও প্রশাসনিক ভবনের দখল নেওয়ার পাশাপাশি জানা যাচ্ছে, পাক সেনার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্রও লুঠ করা হয়েছে।
এই অভিযান প্রসঙ্গে বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচ জানান, এই অভিযানে আমাদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল পাকিস্তানের সামরিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি। শহরের সমস্ত পুলিশ স্টেশন, ডেপুটি কমিশনারের দপ্তর, সরকারি গেস্ট হাউস ও স্থানীয় ব্যাঙ্কগুলি দখল করা হয়েছে। সমস্ত সরকারি গড়ি, ব্যাঙ্ক ও গুদামগুলিতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাক সেনার ৩০টির বেশি রাইফেল ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রের দখল নিয়েছে বালোচ বিদ্রোহীরা। বহু পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে শর্তসাপেক্ষে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এই অভিযানে ওই অঞ্চলের সহকারি ডেপুটি কমিশনার হিদায়াতুল্লা বুলেদির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্রোহী শিবির।
এখানেই শেষ নয়, শহর দখল করার পর বিদ্রোহীরা কোয়েটা-করাচি ও সুরাব গিদ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে সেখানে নিজেদের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যার জেরে ওই অঞ্চলে কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে পাক সেনাবাহিনীর যাতায়াত। বালোচ লিবারেশন আর্মির তরফে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, এই অভিযান বালোচিস্তানের স্বাধীনতার লক্ষ্যে আরও একটি ধাপ। বালোচিস্তানের মাটি থেকে পাকিস্তানকে পুরোপুরি মুছে না ফেলা পর্যন্ত এই লড়াই জারি থাকবে।
বালোচিস্তানকে পাকিস্তানের থেকে মুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছে বিদ্রোহী বালোচ লিবারেশন আর্মি। তাদের এই লড়াইয়ে সঙ্গী হয়েছে তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। গত ১১ মার্চ পাকিস্তান সরকারের রাতের ঘুম উড়িয়ে ৪৫০ জন যাত্রী-সহ জাফর এক্সপ্রেস অপহরণ করে বালোচ বিদ্রোহীরা। সেই অভিযানে ২৮ পাক সেনা ও ২৬ পণবন্দির মৃত্যুর ঘটনা বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে দেয় ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ বা বিএলএ-কে। এখানেই শেষ নয়, স্বাধীনতার লড়াইয়ে একাধিক সেনাক্যাম্পে হামলার পর এবার সুরাব শহর দখলের দাবি করল বালোচ।
