বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে বড়সড় আশার আলো দেখাল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল) (BPCL)। পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) প্রকল্পের কাজ ফের পুরোদমে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে, তখন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প তুরুপের তাস হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিপিসিএল সূত্রে খবর, মোজাম্বিকের অফশোর এরিয়া-১ প্রকল্পে তাদের অধীনস্থ সংস্থা ভারত পেট্রোরিসোর্সেস লিমিটেডের ১০ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। শুধু বিপিসিএল নয়, ওএনজিসি বিদেশ এবং অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডও এই কনসোর্টিয়ামে অন্যতম অংশীদার। মূলত ফরাসি সংস্থা ‘টোটাল এনার্জি’-র তত্ত্বাবধানে চলা এই প্রকল্পটি নিরাপত্তার খাতিরে কিছুকাল থমকে ছিল। তবে গত বছর নভেম্বর মাসে কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে সাজসাজ রব। বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার কর্মী দিনরাত এক করে কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের প্রায় ৪২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।
কেন এই প্রকল্প এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ শতকের বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের আধিপত্য থাকলেও, একুশ শতক গ্যাসের। ভারত বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। ২০৪০ সালের মধ্যে নেট জিরো লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এলএনজি অত্যন্ত জরুরি। প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগান যেমন বাড়বে, তেমনই ভারতের আমদানির পথ আরও মসৃণ হবে। বর্তমানের অস্থির বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস তৈরি করাই এখন দিল্লির প্রধান লক্ষ্য।
বিপিসিএল-এর ডিরেক্টর (ফিনান্স) ভি আর কে গুপ্ত জানিয়েছেন, বিদেশের মাটিতে এই ধরনের অংশীদারি ভারতের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ। এর ফলে ভারতের জ্বালানি সুরক্ষা আরও মজবুত হবে। বর্তমানে বিপিসিএল-এর হাতে মুম্বই, কোচি ও বিনায় বিপুল তেল শোধন ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে রয়েছে তাদের বিশাল ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক। মোজাম্বিকের এই সাফল্য কেবল ব্যবসায়িক লাভ নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তিবাজারে ভারতের প্রভাব বাড়াতেও সাহায্য করবে। সব মিলিয়ে, আগামী দিনে ভারতের প্রতিটি বাড়িতে সস্তায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পৌঁছে দিতে মোজাম্বিক প্রকল্প এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।
