লন্ডনে 'হেনস্তা'র শিকার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। গোটা ঘটনাটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এবার বিষয়টি নিয়ে নিন্দায় সরব হল নয়াদিল্লি। ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের আচরণ অশোভনীয়। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত-বিরোধী তত্ত্ব প্রচার করে ভারতের ভাবমূর্তিকে সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করার প্রচেষ্টা চলছে। এর নেপথ্যে কি কাজ করছে 'ডিপ স্টেট'? উঠছে প্রশ্ন।
গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের বার্কবেক কলেজে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন’ বিষয়ক একটি আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সেখানে বক্তৃতা করার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত কয়েকজন ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ করেন, ভারতে ভিন্নমতের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা চলছে। শুধু তা-ই নয়, প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক 'আরশোলা' মন্তব্য নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন। উপস্থিত এক মহিলা বলেন, "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র রক্ষায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে মহামান্য প্রধান বিচারপতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন।" তাঁর সংযোজন, "আমরা এখন দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বহু আইন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে শুনছি, ভারতে ভিন্নমতের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিষয়টি মহামান্য প্রধান বিচারপতির বক্তব্যেও কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে।"
যদিও ওই মহিলা তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণ করতে পারেননি। মঞ্চে উপস্থিত সঞ্চালক তাঁকে থামিয়ে দেন। বলেন, "অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে বলছি, এই প্রশ্নটি আমি নিতে পারব না। কারণ, আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন। আমি অত্যন্ত দুঃখিত।" এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে ভারত। শক্রবার লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, 'এধরনের অশোভন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। মতপার্থক্য একটি গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক অংশ। তবে, তা অবশ্যই সভ্য ও সম্মানজনকভাবে প্রকাশ করতে হবে।'
