shono
Advertisement
Iran

মধ্যপ্রাচ্যে এবার ‘জলযুদ্ধ’, কুয়েতের জলশোধনাগারে ভয়ংকর হামলা ইরানের! শুকিয়ে মারার ছক?

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন জলপরিশোধনাগার বা ‘ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট’গুলি হল এখানকার ‘জীবনরেখা’। এগুলি সমুদ্রের লবণাক্ত জল পরিশোধন করে পানীয়ের উপযোগী করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে অবস্থিত এই পরিশোধনাগারগুলি এখানকার পানীয় জলের প্রধান উৎস।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 05:19 PM Jul 18, 2026Updated: 05:19 PM Jul 18, 2026

লাগাতার মার্কিন হামলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার ঘাঁটিগুলিতে আগেই হামলা চালাতে শুরু করেছে তেহরান। এবার তাদের নিশানায় বিদ্যুৎ এবং জলশোধন কেন্দ্রগুলি। শনিবার সকালে কুয়েতের একটি জলশোধনাগারে ভয়ংকর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কৌশল বদলে এবার মধ্যপ্রাচ্যে 'জলযুদ্ধ' শুরু করে দিল তেহরান।

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন জলপরিশোধনাগার বা ‘ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট’গুলি হল এখানকার ‘জীবনরেখা’। এগুলি সমুদ্রের লবণাক্ত জল পরিশোধন করে পানীয়ের উপযোগী করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে অবস্থিত এই পরিশোধনাগারগুলি এখানকার পানীয় জলের প্রধান উৎস। এই দেশগুলির প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ জল সরবরাহ এই পরিশোধনাগারগুলির উপরই নির্ভরশীল। ফলে এই পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় আকারের জল সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলে ইরান আসলে এই পরিকাঠামোগুলিতে আঘাত হেনে দেশগুলিকে শুকিয়ে মারতে চাইছে। কুয়েতের জলশোধনাগারে হামলার পরই একটি বিবৃতি জারি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড। তারা জানিয়েছে, যে সব দেশ আমেরিকার আগ্রাসী বাহিনীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, ইরানের উপর হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে, তাদের আমরা জবাব দেব।

বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, কুয়েতে ইরানের এই হামলা সুপরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি। কারণ, তেল বা সামরিক ঘাঁটির উপর আঘাত অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে, কিন্তু পানীয় জলের উৎসে আঘাত হানলে সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়। এর ফলে দ্রুত চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। কিন্তু বড় উদ্বেগের বিষয় হল – মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির অধিকাংশের কাছেই সীমিত সময়ের জন্য পানীয় জলের মজুত থাকে। ফলে বড় কোনও জলপরিশোধনাগার অচল হয়ে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং তা মানবিক সংকটে পরিণত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement