সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শুক্রবার আচমকা চিনের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শোনা যাচ্ছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে তা কার্যকর হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ট্রাম্পকে ফের হুঁশিয়ারি দিল বেজিং। তাদের বার্তা, ভুল করবেন না। আমরাও পালটা পদক্ষেপ করতে পারি।
সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান ওয়াশিংটনকে বার্তা দিয়ে বলেন, “ভুল কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। দ্রুত সংশোধন করে নিন। আমরাও পালটা পদক্ষেপ করতে পারি। যে কোনও সিদ্ধান্তেই সমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকা উচিত। বাণিজ্য অথাবা শুল্কযুদ্ধ নিয়ে আমাদের অবস্থান অবিচল। আমরা এসব চাই না। তবে শুল্কযুদ্ধে ভয়ও পাই না।” বলে রাখা ভালো, রবিবারও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল বেজিং। জানিয়েছিল, দ্বিচারিতার আদর্শ উদাহরণ হল আমেরিকা। এরপরই তারা পালটা পদক্ষেপেরও হুমকি দেয়। ২৪ ঘণ্টা পর ফের সেই সুর শোনা গেল চিনের মুখে। উল্লেখ্য, চিনের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ফলে আগামী মাসের প্রথমদিন থেকে মোট শুল্কের পরিমাণ পৌঁছাবে ১৪০ শতাংশে। তবে এই তারিখ এগিয়েও আসতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যদি চিন আমেরিকার উপরে কোনও ‘আক্রমণাত্মক’ পদক্ষেপ করতে চায়, তাহলে অক্টোবর থেকেই নয়া শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
কেন হঠাৎই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প? সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রের দাবি, বিরল খনিজ রপ্তানির উপর চিন নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চেয়েই এমন পদক্ষেপ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প দাবি করেছেন, চিনের ওই সিদ্ধান্তে গোটা বিশ্বেই প্রভাব পড়ত। সেই সঙ্গেই তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চিনের ‘দাদাগিরি’ খর্ব করতেই আমেরিকার দীর্ঘকালীন পরিকল্পনার অংশ নতুন পদক্ষেপ।
অথচ ট্রাম্প এর আগে গত আগস্টেই বলেছিলেন, তিনি ৯০ দিনের আগে বেজিংয়ের উপরে শুল্ক চাপাবেন না। জানিয়েছিলেন, আগামী ১০ নভেম্বর রাত ১২টা বেজে ১ মিনিট পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে নয়া শুল্ক লাগু করার সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ এই সময়কালে যে শুল্ক নেওয়া হচ্ছে তাই বলবৎ থাকবে। কিন্তু সেই সময়কালের অনেক আগেই সিদ্ধান্ত বদল করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের ফের কড়া প্রতিক্রিয়া দিল বেজিং।
