যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির জেরে দ্বিতীয় দফায় আলোচনার মৃদু সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে (US Iran Talk)। তবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তানকে একেবারেই ভরসা নেই ইরানের। এই অবস্থায় দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু করতে চিনের দ্বারস্থ হচ্ছে পাকিস্তান। সূত্রের খবর, ইরানের দাবি মেনেই এই পদক্ষেপ করছেন শাহবাজ-মুনিররা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তানের পাশাপাশি থাকতে পারে চিনের প্রতিনিধিরা।
লক্ষ চেষ্টার পরও আমেরিকার-ইরানের মধ্যে স্থায়ী সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান। এই অবস্থায় শীর্ষ কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এক রিপোর্ট সামনে এনেছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের উপর ভরসা কমতে শুরু করেছে ইরানের। এই অবস্থায় এই যুদ্ধ থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে চিন। দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ৬টি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। ৬টি বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরানের প্রধান দাবিগুলি পূরণ করা এবং স্থায়ী শান্তির গ্যারান্টি দেওয়া। এছাড়াও আরও বেশকিছু বিষয়কে মাধ্যম করে আলোচনা শুরু করতে চাইছে ইরান ও আমেরিকা।
ইরানের তরফে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের ইরানের দাবিকে কোণঠাসা করে আমেরিকার পুতুলের ভূমিকা পালন করছে। এবং ওয়াশিংটনের ১৫ থেকে ১৬টি নয়া দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ইরান। তেহরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে পাকিস্তানকে দু'মুখো বলে কটাক্ষ করা হয়। পাক সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরকে নিশানায় নিয়ে জানানো হয়, ইসলামাবাদ আমেরিকার দিকে ঝুঁকে রয়েছে আমার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার নাটক করে চলেছে। ইরানের তরফে আরও দাবি করা হয়, পাকিস্তানের ইরানের দাবিকে কোণঠাসা করে আমেরিকার পুতুলের ভূমিকা পালন করছে। এবং ওয়াশিংটনের ১৫ থেকে ১৬টি নয়া দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এই অবস্থায় ইরান চায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চিন এখানে অংশ নিক। এখানে চিনের অন্তর্ভুক্তি কূটনৈতিকভাবেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইরানের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। পাকিস্তান আমেরিকার পায়ের নিচে শুয়ে থাকলেও, চিন তা নয়। প্রয়োজনে আমেরিকাকে জবাব দিতেও দ্বিধা করে না। ফলে ইরানের কাছে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চিনই সবচেয়ে বেশি পছন্দের।
