shono
Advertisement
Colombia

কাঁপছে মাটি, তাসের ঘর একের পর এক বিলাসবহুল বাড়ি! শিউরে ওঠা কলম্বিয়ার ধ্বংসলীলার ভিডিও

৭.৪ মাত্রার কম্পনে বিপর্যস্ত কলম্বিয়ায় শুধুই ধ্বংসের ছবি, মৃতের সংখ্যা ১৫০ পেরিয়েছে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 05:53 PM Aug 11, 2026Updated: 05:53 PM Aug 11, 2026

পায়ের নিচে মাটি কেঁপে ওঠা বোধহয় একেই বলে। রোদ ঝলমলে দুপুরে হুড়মুড়িয়ে দুলে উঠল গোটা দেশ! সোমবার কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রা ভূমিকম্প ফিরিয়ে আনল মাস খানেক আগে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলার বিপর্যয়-স্মৃতি। দেশজুড়ে শুধুই ধ্বংসের টুকরো ছবি। সোমবার কম্পনের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু হতেই একে একে বেরিয়ে এসেছে নিথর দেহ। এখনও পর্যন্ত কলম্বিয়ার কম্পনে মৃতের সংখ্যা ১৬০-এর বেশি। গোটা দেশ তছনছ হয়ে গিয়েছে। সোশাল মিডিয়া জুড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া বাড়ি-ঘরদোরের ছবি, ভিডিও ভাইরাল। বলা হচ্ছে, একুশ শতকের কলম্বিয়ায় এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। এই অবস্থায় কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। উদ্ধারকাজে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

ভূমিকম্পে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানুষজন, কলম্বিয়ায়। ছবি: সংগৃহীত

সোমবার দুপুরে বাড়িতে থাকাকালীন কম্পন টের পেয়েছিলেন কলম্বিয়ার লিলিয়ানা পেরেজ ওকাম্পো। বাড়ির ছোটরা স্কুলে ছিল। ছেলে ছিল বাড়িতে। কম্পন টের পাওয়ামাত্রই তিনি হাফপ্যান্ট পরেই ছুটে বেরিয়ে আসেন বাড়ি থেকে। পোষ্যটিও রাস্তায় বেরিয়ে আসে। পিছনে ঘুরে তাকাতেই যুবকের চক্ষুচড়কগাছ! দেখেন, তাঁদের উঁচু বাড়ি এবং পাশের বাড়িটি একেবারে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল চোখের সামনে। চার সন্তানের মা লিলিয়ান বলছেন, ‘‘প্রথমে মনে হয়েছিল, হালকা মাটি কাঁপছে। কিন্তু ৩০ সেকেন্ড ধরে এরকম হওয়ার পর বুঝলাম যে ভূমিকম্প হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলে আর পোষ্যকে নিয়ে বেরিয়ে আসি। ভাগ্যিস বাড়ির অন্দর থেকে রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছিলাম! তাই প্রাণে বেঁচে গেছি।''

কম্পন টের পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পরই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বিশাল বাড়িটি, সোমবার কলম্বিয়ায়। ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দুই শহর - পেরেইরা ও ক্যালি শহর। সারাদিন, সারারাত ধরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে প্রাণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। এখনও জানেন না, ক্ষয়ক্ষতি ঠিক কতটা। প্রত্যন্ত এলাকাগুলির অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক সাহায্যটুকুও পৌঁছে দেওয়া যায়নি। তার অন্যতম কারণ, তীব্র কম্পনে রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষজনের ছোট ছোট বাড়িঘর সব ধুলিসাৎ। খোলা আকাশের নিচে প্রায় একটা দিন কেটে গেল তাঁদের।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যালি শহর, চোখের সামনে তাসের মতো ভেঙে পড়ছে বাড়িগুলি। ছবি: সংগৃহীত

পেরেইরা আবার সে দেশের মূল কফি উৎপাদন কেন্দ্র। এখান থেকে সর্বাধিক মৃত্যুর খবর এসেছে বলে জানা গিয়েছে প্রশাসন সূত্রে। এই এলাকা কম্পন বিধ্বস্ত হওয়ায় কফি ব্যবসায় বড়সড় ক্ষতি হয়েছে স্বাভাবিকভাবে। সদ্যই কলম্বিয়ার শাসন ক্ষমতায় এসেছে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিলা। রাজনৈতিক মহলের মত, এই কম্পনে দেশের যা ক্ষতি হল, তার মোকাবিলা করা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement