হিলটন হোটেলের নৈশভোজে হামলার ঘটনায় ধৃত ব্যক্তির ‘দাবি’ ঘিরে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হামলাকারী কোল টমাস অ্যালেনের লেখা একটি বিবৃতি (ম্যানিফেস্টো) বর্তমানে খবরের শিরোনামে। ট্রাম্প-বিরোধী ওই ম্যানিফেস্টোটি কোল তাঁর পরিজন-আত্মীয়দের পাঠিয়েছিলেন আর সেখানে ট্রাম্পকে শিশুকামী, ধর্ষক এবং প্রতারক বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করলে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। সাংবাদিককে ‘খারাপ মানুষ’ বলে তোপ দেগে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমি শিশুকামী নই। ধর্ষক নই। কাউকে ধর্ষণ করিনি আমি।’’
শনিবার গভীর রাতে হোয়াইট হাউস আয়োজিত নৈশভোজে হোটেলের বলরুমে, নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছিলেন কোল। বছর একত্রিশের যুবকের সঙ্গে ছিল ছুরি-সহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। আট বার গুলি চালান কোল। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তিও হয়। কিন্তু বলরুমে ঢুকতে পারেননি তিনি। তার বাইরেই তাঁকে ধরে ফেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। পরে জানা যায়, ট্রাম্প-বিরোধী একটি ম্যানিফেস্টো প্রস্তুত করেছিলেন কোল। আর সেটি নিজের পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়েছিলেন। সেই ম্যানিফেস্টোয় কোথাও ট্রাম্পের নাম না নিলেও বক্তব্যগুলি যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করেই ছিল, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ম্যানিফেস্টোয় লেখা ছিল, ‘‘এক জন শিশুকামী, ধর্ষক এবং প্রতারকের করা অপরাধের কালি নিজের হাতে মাখতে আমি রাজি নই।’’ এদিকে নৈশভোজে গুলি-কাণ্ডের ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেই চ্যানেলের সাংবাদিক নোরা ও’ডনেলের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই একসময় নোরা কোলের লেখা কথাগুলি, পড়তে শুরু করেন। মুহূর্তেই মেজাজ হারান প্রেসিডেন্ট। রাগত স্বরে বলে ওঠেন, ‘‘আমি অপেক্ষা করছিলাম, কখন আপনি ওই লেখা পড়বেন। কারণ আমি জানতাম, আপনি পড়বেনই। এই প্রসঙ্গ তুলবেনই। কারণ, আপনি খারাপ লোক। খারাপ লোক।’’ এর পরই তাঁর সংযোজন, ‘‘হ্যাঁ, ও সেটা লিখেছে। কিন্তু আমি ধর্ষক নই। আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি।’’ ট্রাম্পের কথা শেষ হওয়ার আগেই সাংবাদিক বলে ওঠেন, ‘‘ও! তার মানে আপনি মনে করেন, আপনার কথাই সে বলেছিল?’’
সাংবাদিককে ‘খারাপ মানুষ’ বলে তোপ দেগে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমি শিশুকামী নই। ধর্ষক নই। কাউকে ধর্ষণ করিনি আমি।’’
প্রেসিডেন্ট তা এড়িয়ে যান এবং বলেন, ‘‘আমি শিশুকামী নই। আপনি ওই অসুস্থ লোকটার কথা পড়ে শোনাচ্ছেন আমায়? ও যা লিখেছে, তার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। আমি নির্দোষ।’’ ট্রাম্পের ধারণা ছিল, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে নৈশভোজে হামলাকারী তার ম্যানিফেস্টো-তে বিতর্কিত কথা লিখেছিল। আর তাই তিনি আরও বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি ওটা (ম্যানিফেস্টো) পড়েছি। ও অসুস্থ মানসিকতার লোক। চরমপন্থায় বিশ্বাসী। আগে খ্রিস্টান ছিল এখন খ্রিস্ট-বিরোধী। কিন্তু আপনার লজ্জা হওয়া উচিত, আপনি এই সব আবর্জনা পড়ছেন। কারণ আমি এর কোনওটাই নই।’’
বস্তুত, ধৃত হামলাকারীর এহেন রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট নেতাদের ‘হেট স্পিচ’-কেই দায়ী করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, বিরোধীদের বিপজ্জনক বক্তব্যই দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। গত দু’বছরে এই নিয়ে ট্রাম্পের ওপর তৃতীয়বার হামলার চেষ্টা হলেও তিনি দাবি করেছেন, গুলির শব্দ শুনে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন হননি। বরং পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো যায়, সিক্রেট সার্ভিসের আধিকারিকদের সেই নির্দেশ দিচ্ছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় সামলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘ও (মেলানিয়া) দারুণ। অসীম ধৈর্যের সঙ্গে সবটা সামলে নিয়েছে।’’
