সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের উপর শুল্ক চাপিয়েই পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলল আমেরিকা। বুধবার নিজেই একথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানে যে তেলের ভাণ্ডার রয়েছে তার উন্নতিসাধনের জন্য দু'দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
ট্রাম্পে তাঁর সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে লেখেন, 'আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে ইতিমধ্যেই একটি চুক্তি সাক্ষর করেছি। পাকিস্তানে যে বিশাল তেলের ভাণ্ডার রয়েছে, তার উন্নতিসাধনের জন্য দু'দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। তবে এখানে কোন তেল উত্তোলনকারী কাজ করবে, তা ঠিক করবে ওয়াশিংটন। কে জানে! হয়তো ইসলামাবাদ একদিন ভারতকে তেল বিক্রি করবে।' একইসঙ্গে ট্রাম্প আরও লিখেছেন, 'আমরা এখন খুব ব্যস্ত। আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে হোয়াইট হাউস ভাবনাচিন্তা করছে। শীঘ্রই আমি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করব। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার উপর শুল্কহার রয়েছে ২৫ শতাংশ। বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে তা কমতে পারে।'
বুধবার ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ১ আগস্ট থেকে নতুন শুল্কহার কার্যকর হবে। ট্রম্প সাফ জানিয়ে দেন, রাশিয়া থেকে কমদামি তেল কেনার ‘সাজা’ হিসাবেই ভারতকে এই অতিরিক্ত শুল্ক গুণতে হচ্ছে। ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, ‘মনে রাখতে হবে, ভারত আমাদের বন্ধু হলেও আমাদের দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য খুবই কম। তার কারণ ওদের শুল্ক হার খুব বেশি। তাছাড়াও, ওদের যুদ্ধাস্ত্রের অনেকটাই রাশিয়া থেকে কেনা। রুশ শক্তি সম্পদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত এবং চিন। বিশেষত সেই সময়ে, যখন সকলে বলছি রাশিয়ার উচিৎ ইউক্রেনে গণহত্যা বন্ধ হোক। তাই ভারত এবার ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে।' ট্রাম্পের এই শুল্কবাণের পালটা বিবৃতি দেয় ভারতও। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষিত করতে সমস্ত রকম পদক্ষেপ করবে সরকার।
প্রসঙ্গত, বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, বাণিজ্যচুক্তি হবে ভারত-আমেরিকার। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরেও গিয়েছিলেন দিল্লির দূতেরা। বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করতে আমেরিকার তরফে চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল ১ আগস্ট। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে এখনও সমঝোতায় আসতে পারেনি দু'দেশ। তার মধ্যেই এবার পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলল আমেরিকা। ফলে সংশয় বাড়ছে, শেষ পর্যন্ত একমত হয়ে দু'পক্ষ চুক্তি করতে পারবে তো? এই প্রশ্নটিই এখন জোরাল হতে শুরু করেছে।
