আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁকেই ইরানের সুপ্রিম লিডার হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। বৃহস্পতিবার এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুধু তা-ই নয়, তিনি এ-ও দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানের সঙ্গে এখনও তাঁর আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার একটি দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইরানের সুপ্রিম লিডার হতে কেউই আগ্রহী হবেন না। আমি খুব স্পষ্টভাবে তাদের কথা শুনি। তারা আমাকে সুপ্রিম লিডার হওয়ার জন্য বারবার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আমি রাজি হইনি। বলেছিলাম, ধন্যবাদ। আমি এই পদ চাই না।”
গত মাসে খামেনেইয়ের হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই ইরানের সুপ্রিম লিডার হিসাবে উন্নীত হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় তিনি গুরুতর আহত। আরও এক প্রতিবেদনে আবার দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি মস্কোতে চিকিৎসাধীন।
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানকে ট্রাম্প ‘সামরিক ধ্বংসযজ্ঞ’হিসাবে বর্ণণা করেছেন। পাশাপাশি, তিনি ঘোষণা করেছেন, এই যুদ্ধে আমেরিকা জয়লাভ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “যুদ্ধবিরতি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সে দেশের সরকার এই যুদ্ধ বন্ধ করতে চায় কিন্তু তারা ভয় পাচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছে, তাদের এই পদক্ষেপে ক্ষুদ্ধ হবে দেশের নাগরিক।”
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছেন ট্রাম্প। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হরমুজের তালা খোলা ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই শান্তিপ্রস্তাব ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের শীর্ষ মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাকারি সে দেশের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি বার্তায় বলেন, “আপনার (ট্রাম্পের) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনি নিজের সঙ্গেই দর কষাকষি করছেন? আমারা আপনাদের মতো মানুষের সঙ্গে কখনই মানিয়ে চলতে পারব না। আমরা কোনও দিনই আপোস করব না। আমরা আগও বলেছি এখনও বলছি, আপনাদের সঙ্গে আমরা কোনও চুক্তি করব না।”
