‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালীকে অন্ধকারে রেখেই ইরান যুদ্ধ শেষ করার চিন্তাভাবনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে আমরা আমাদের লক্ষ্যের খুবই কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি। হরমুজকে রক্ষা করতে অন্যান্য দেশগুলিকে তৎপর হতে হবে।
শুক্রবার সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসনের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক অভিযান আমরা গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। আমরা আমাদের উদ্দেশ্য পূরণের কাছাকাছি চলে এসেছি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘ইরানের সামরিক পরিকাঠামো আমরা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। ইরানের নৌসেনা, বায়ুসেনা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ইরান যাতে কোনও দিন পরমাণু অস্ত্র না বানাতে পারে তা নিশ্চিত করবে আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বাহরিন, কুয়েতের মতো বন্ধু দেশগুলিকে আমরা রক্ষা করেছি।’
অন্যদিকে, হরমুজ নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, "যে দেশগুলি হরমুজ ব্যবহার করে তাদেরই এই জলপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আমেরিকা হরমুজ ব্যবহার করে না।" তিনি আরও বলেন, "যদি আমেরিকার কাছে দেশগুলি সাহায্য চায়, তাহলে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু ইরান দুর্বল হয়ে গেলে তার আর প্রয়োজন হবে না।"
উল্লেখ্য, শনিবার ২২ দিনে পড়েছে ইরান যুদ্ধে। এই লড়াইয়ে ইরান ছারখার হলেও প্রত্যাঘাতে আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে মার্কিন হামলায়। শেষ ২০ দিনের যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ৩টি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও ৬টি কেসি ট্যাঙ্কার ধ্বংস হয়েছে। ইজরায়েলের হাইফা তেল সংশোধনাগারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার ধ্বংস করেছে ইরান। হরমুজ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার পেরিয়েছে।
