পরমাণু বোমা তৈরির জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনও গোপন কক্ষে লুকিয়ে রেখেছে ইরান, এমনই অভিযোগ আমেরিকার। ৬০ শতাংশের বেশি সমৃদ্ধ সেই ইউরেনিয়াম খুঁজে আনতে ইরানে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করল আমেরিকা ও ইজরায়েল। গত ২১ দিন ধরে চলমান যুদ্ধের মাঝেই সামনে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন ভাণ্ডারে হানা দেওয়া।
মার্কিন প্রশাসনের উদ্ধৃতি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাঝেই এক গোপন অপারেশনের প্রস্তুতি শুরু করেছে আমেরিকা। যার লক্ষ্য ইরানের গুপ্ত ইউরেনিয়াম ভাণ্ডারে অভিযান চালানো। এর জন্য আমেরিকার এলিট কমান্ডো বাহিনী 'জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড' (JSOC)-কে ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর এই কমান্ডো বাহিনীকে আমেরিকা বিশেষ সংবেদনশীল অভিযানের জন্য ব্যবহার করে। তবে কবে ও কখন অভিযান চালানো হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এই অপারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
এর জন্য আমেরিকার এলিট কমান্ডো বাহিনী জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড (JSOC)-কে ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর এই কমান্ডো বাহিনীকে আমেরিকা বিশেষ সংবেদনশীল অভিযানের জন্য ব্যবহার করে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAAEA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এখনও নিম্নস্তরেই রয়েছে। তবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের দাবি ইরান ৯৭২ পাউন্ড ইউরেনিয়ামকে ৬০ শতাংশের উপরে সমৃদ্ধ করেছে। যা পরমাণু বোমা তৈরির চেয়ে মাত্র একধাপ নিচে। এই অবস্থায় গত বছর ইরানের একাধিক পরমাণু ঘাঁটিতে গতবছর হামলা চালিয়েছিল ইরান। যে অভিযানের নাম ছিল অপারেশন 'মিডনাইট হ্যামার'। হামলায় ইরানের পরমাণু ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দাবি করা হয়, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনও গোপন স্থানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে তেহরান।
যদিও ইরান শুরু থেকেই দাবি করে এসেছে তাদের কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র নেই। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বরাবরই শান্তিপূর্ণ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তা মানতে নারাজ। পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে নয়া চুক্তি সই করার দাবি তুলেছে আমেরিকা। যেখানে শর্ত দেওয়া হয়েছে মিসাইল কর্মসূচিও বন্ধ করতে হবে ইরানকে। মার্কিন দাবি না মানায় শুরু হয়েছে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। এবার ইউরেনিয়াম উদ্ধারে ইরানের মাটিতে কমান্ডো বাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করল আমেরিকা।
