২৩ মার্চ, গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আগামী ৫ দিন ইরানের জ্বালানিকেন্দ্রে হামলা চালাবে না আমেরিকা। শুক্রবার এই সাময়িক সংঘর্ষ বিরতি পাঁচদিন থেকে বাড়িয়ে ১০ দিন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ আগামী সোমবার, ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত (ইরানি সময়) ইরানে হামলা চালাবে না মার্কিন সেনা। এভাবে ধাপে ধাপেই কি শান্তি ফিরবে পশ্চিম এশিয়ায়?
এদিন ট্রুথ সোশালে সংঘর্ষবিরতি আরও পাঁচ দিন বাড়ানোর কথা জানান ট্রাম্প। ট্রুথ সোশালে তিনি লিখেছেন, "ইরান সরকারের অনুরোধ পেয়ে এই বিবৃতিতে আমি জানাতে চাই যে, আমি (ইরানের) জ্বালানিকেন্দ্র হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছি। যা সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।" এদিন নিজের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমকে একহাত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম যুদ্ধ সংক্রান্ত ভুয়ো সংবাদ পরিবেশন করছে। এর পরেও শান্তি প্রক্রিয়ার কাজ ঠিক মতোই চলছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাঁকে বিরাট উপহার পাঠিয়েছে। যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ওরা। আলোচনা সঠিক লোকেদের সঙ্গে চলছে বলেও জানান ট্রাম্প। এসবের মাঝেই সামনে এসেছে আমেরিকার ১৫ দফা শর্ত। কিন্তু ওই শর্ত ইরান মানবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর সংশয়। তবে সূত্রের খবর, ইরান পাঁচ বছরের জন্য় তাদের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা হ্রাস করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে শর্ত এবং পালটা শর্তে আপাতত জটিল হয়ে উঠেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রিয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়।
