স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়কের উদ্ধত হুঙ্কার! 'কিউবাকে (Cuba) নিয়ে আমার যা ইচ্ছা তাই করতে পারি'। বক্তার নাম ডোনাল্ড জন ট্রাম্প (Donald Trump)। গত দু'সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণে যুদ্ধ চলছে। মাস দু'য়েক আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাতের অন্ধকারে সস্ত্রীক আমেরিকার মাটিতে উঠিয়ে আনে যাঁর প্রশাসন। তাঁর এবারের নজর ফিদেল কাস্ত্রোর দেশ কিউবায়। সোমবার তিনি বলেছেন, কিউবাকে 'যে কোনও উপায়ে নিজের দখলে নেওয়া'র সুযোগ যে কোনও সময় তিনি পাবেন বলে আশাবাদী এবং দেশটিকে নিয়ে তিনি 'যা খুশি তাই' করতে পারেন।
ভেনেজুয়েলা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কিউবাকে করায়ত্ত করার চেষ্টায় আমেরিকা। সেই জন্য নৌবহর দিয়ে কিউবাকে ঘিরে সমস্ত আমদানির পথ বন্ধ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মঙ্গলবারই ইস্তফা দিয়েছেন আমেরিকার সন্ত্রাস দমন শাখার প্রধান জো কেন্ট। তাঁর বক্তব্য, “ইরানের দিক থেকে আমেরিকার জন্য কোনও বিপদ ছিল না। শুধু মাত্র ইজরায়েলের জন্যই তাদের উপর হামলা করা হয়েছে।" তবে এসবে ট্রাম্পের কিছুই যায় আসে না। সকলের উপর ক্ষমতা করায়ত্ত করতেই ব্যস্ত তিনি।
কিউবা যখন সংকটে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক জর্জরিত, তখন ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, কিউবাকে কোনও না কোনওভাবে দখলে নেওয়ার সুযোগ আমি পাব। এটি একটি বড় সম্মান।" ট্রাম্প আরও বলেন, "আমি দেশটিকে মুক্ত করি বা দখল করি, মানে আমি বলতে চাই, কিউবা নিয়ে আমি যা খুশি তা-ই করতে পারি বলে মনে করি।"ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর 'নিউ ইয়র্ক টাইমস' এর তরফে জানানো হয়েছে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরানোই ওয়াশিংটনের এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য।
ইতিমধ্যেই কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে এবং কিউবার কাছে তেল বিক্রয়কারী সমস্ত দেশের উপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর ফলে গত তিন মাস ধরে কিউবায় কোনও তেল পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় চলছে। সোমবার গোটা কিউবার বিদ্যুৎ গ্রিড অচল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ কতটা যুক্তিযুক্ত সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিছু জানায়নি। এমনকী ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
