সোমবার রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হাসপাতালে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০০ জনের। তারপর থেকেই বদলার আগুনে জ্বলছে তালিবান। এবার তারা সাফ জানিয়ে দিল, কূটনৈতিকস্তরে আলোচনার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। এই হামলার বদলা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ ইসলামাবাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা পাক আগ্রাসনের আরও একটি উদাহারণ। আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে তারা হামলা চালিয়েছে। বেছে বেছে নিরীহ নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনও কূটনৈতিক আলোচনা হবে না। এই মৃত্যুমিছিলের বদলা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, "পাক সেনা ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুল, হাসপাতাল, মাদ্রাসায় বোমাবর্ষণ করেছে। তাদের এই কার্যকলাপ মানবতা-বিরোধী।" পাশাপাশি, ইসলামাবাদকে 'সন্ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী' বলেও কটাক্ষ করেছেন তালিবান মুখপাত্র।
কাবুলের যে হাসপাতালটিতে হামলা চলেছে সেটি মূলত নেশামুক্তি কেন্দ্র। বরাবরই সেখানে রোগীদের ভিড় থাকে। স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টা নাগাদ আচমকাই ওই হাসপাতালে হামলা চালায় পাক বায়ুসেনা। গোটা হাসপাতাল একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সেই ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। তালিবান সরকার জানিয়েছে, রাত ন’টা নাগাদ আচমকাই প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আমজনতা। আরও জানা গিয়েছে, অনেকেই ওই সময় রোজা ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেসময়েই হামলা করেছে পাকিস্তান।
যদিও পাকিস্তানের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালে হামলা চালায়নি তারা। বরং তাদের আক্রমণের নিশানা সামরিক ঘাঁটি এবং জঙ্গিদের নানা কেন্দ্র। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই জঙ্গি দমন অভিযানের নামে আফগানিস্তানের নানা অংশে আক্রমণ শানিয়েছে পাকিস্তান। গত রবিবার বড়সড় হামলা হয়েছিল কান্দাহারে। আফগানিস্তানের ইতিহাসে কোনও হাসপাতালের উপর এত বড় আক্রমণ- মনে করতে পারছেন না কেউই।
