নতুন সম্পর্কের সূচনা। ফের কাছাকাছি আমেরিকা-তুরস্ক। মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ওয়াশিংটন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর বৈঠক থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, তুরস্কের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি, আঙ্কারাকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানালেন ট্রাম্প। ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জেরে তুরস্কের সঙ্গে বিবাদে জড়ায় ওয়াশিংটন। কিন্তু এবার দু'দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নয়া মোড় আসছে বলেই ইঙ্গিত মিলল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দু'দেশের নয়া এই 'বন্ধুত্বে'র জেরে অস্বস্তিতে পড়তে পারে ভারত। কারণ, তুরস্কের হাতে উচ্চশক্তি সম্পন্ন এই যুদ্ধবিমান আসা এবং অন্যদিকে আঙ্কারা-ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভারতের নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নয়াদিল্লির উদ্বেগের মূল কারণ হল, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদার হয়ে উঠেছে তুরস্ক। আপারেশন সিঁদুর চলাকালীন তুরস্কের ড্রোন নিয়েই ভারতে হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তাই এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের হাতে যদি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আসে, তাহলে তা পাকিস্তানের কাছেও পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের একাংশের।
এদিকে কূটনীতির ময়দানে সবদিক পর্যবেক্ষণ করে ভারতও নিজেদের ঘুঁটি সাজাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গ্রিসের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে নয়াদিল্লি। কারণ, এথেন্সের সঙ্গে তুরস্কের দীর্ঘদিনের বিরোধ। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই দু'দেশের দেশের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি গ্রিস সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দু'দেশের আলোচনা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বহুবার পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসলামাবাদকে সমর্থনও করেছে তারা। তাই আঙ্কারার সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে, তা ভবিষ্যতে পাকিস্তানের জন্যও সুবিধা হতে পারে বলে আশঙ্কা নয়াদিল্লির।
