বিতর্কিত এরিয়া-৫১ ও ভিনগ্রহী ইস্যুতে সম্প্রতি এক পডকাস্টে মুখ খুলেছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর ঠিক পরই সক্রিয় হয়ে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিরক্ষা বিভাগ-সহ মার্কিন এজেন্সিগুলিকে নির্দেশ দিলেন, ভিনগ্রহী ও ইউএফও (UFO) সংক্রান্ত যাবতীয় ফাইল প্রকাশ করার।
ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে রাখা হয়েছে বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বারাক ওবামা বলেন, “আমি কখনও কোনও ভিনগ্রহী দেখিনি। তবে বিশ্বাস করি ওরা আছে।" পাশাপাশি বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা আমেরিকার এরিয়া-৫১ অঞ্চল প্রসঙ্গে বলেন, “এরিয়া-৫১ কোনও ভিনগ্রহীকে লুকিয়ে রাখা হয়নি। এবং এখানে কোনও গোপন সামরিক ঘাঁটিও নেই বলেই জানি। তবে হ্যাঁ এটা সত্যি হতে পারে তখনই, যদি কেউ বা কারা বিরাট কোনও গোপন ষড়যন্ত্র করে থাকে এবং সেই ষড়যন্ত্র খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেও লুকিয়ে রাখা হয় তবেই।”
ওবামার এহেন দাবি গোটা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দেয়। এই ইস্যুতে ওবামাকে একহাত নিয়ে ট্রাম্প (Donald Trump ) বলেন, "গোপন তথ্য ফাঁস করে উনি মস্ত বড় ভুল করলেন। ওঁর থেকে এমনটা কাম্য ছিল না। আমি জানি না ওরা (ভিনগ্রহী) সত্যিই আছে কি নেই। তবে এটা বলতে পারি গোপন তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। অনেকে এগুলো বিশ্বাস করে ঠিকই, তবে আমি এই নিয়ে কোনও কথা বলি না।" এর পরই ভিনগ্রহী ও ভিনগ্রহীদের যান (ইউএফও) সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, 'এই বিষয়টি নিয়ে গোটা দেশে যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা মাথায় রেখে প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আমার নির্দেশ ভিনগ্রহী ও ভিনগ্রহীদের যান নিয়ে যা গোপন নথি রয়েছে, তা শনাক্ত করে প্রকাশ করা হোক।'
এদিকে পডকাস্টে ওবামার মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই পালটা সাফাই দিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য ছিল, "যেভাবে দ্রুত প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছিল, আমি তার সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা করছিলাম শুধু। পরিসংখ্যানগত ভাবে ব্রহ্মাণ্ড এতই বিশাল যে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। তবে সৌরজগৎগুলির মধ্যে দূরত্ব এতটাই বেশি যে, ভিনগ্রহী এসে ঘুরিয়ে গিয়েছে, সে সম্ভাবনা নেই। ভিনগ্রহীরা পৃথিবীবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এমন সম্ভাবনার কোনও প্রমাণ প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন আমার নজরে আসেনি।"
