হরমুজ থেকে জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করতে 'প্রোজেক্ট ফ্রিডম' ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সেনার নিরাপত্তায় গত ২ দিনে ৩টি জাহাজকে হরমুজ থেকে বেরও করা হয়। তবে সেই পদক্ষেপে এবার দাড়ি টানলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের অনুরোধেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে হরমুজে আগের মতোই আমেরিকা অবরোধ চালিয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রোজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যেখানে তিনি জানান, পাকিস্তান-সহ বেশকিছু দেশের তরফে অনুরোধ এসেছিল। যেখানে আশ্বস্ত করা হয় ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। যার জেরেই আপাতত প্রোজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে আমেরিকা এই অভিযান স্থগিত করার ঘটনাকে নিজেদের জয় বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, আমেরিকা হরমুজ খোলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়ে পিছু হটেছে। এদিকে রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের আগে যেখানে হরমুজ থেকে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে মার্কিন অভিযানের পর সোমবার ২টি ও মঙ্গলবার একটি জাহাজ বের করতে পেরেছে আমেরিকা।
রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের আগে যেখানে হরমুজ থেকে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে মার্কিন অভিযানের পর সোমবার ২টি ও মঙ্গলবার একটি জাহাজ বের করতে পেরেছে আমেরিকা।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে প্রোজেক্ট ফ্রিডমকে কেন্দ্র করে একদফা যুদ্ধ শুরু হয় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে। ইরান দাবি করে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। পালটা আমেরিকা জানায়, ইরান হামলা চালিয়েছিল কিন্তু সেই হামলা রুখে দেওয়া হয়েছে। ইরানের ৬টি বোট ধ্বংস করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ”আমরা যুদ্ধ করতে চাইছি না। ওরা বলছে ওরা নাকি প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু ওরা করছে না। আমেরিকা ইরানের হামলা থেকে জাহাজগুলিকে রক্ষা করছে।”
এই প্রসঙ্গেই তাঁর মুখে উঠে আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ প্রসঙ্গও। বলা হয়, এটি ট্রাম্প সূচিত এক এমন উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্যই হল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ দিয়ে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া। হেগসেথ বলেন, এই প্রোজেক্টের লক্ষ্য সফল করতে গেলে ইরানের আকাশসীমা কিংবা জলসীমায় প্রবেশ করার প্রয়োজন নেই মার্কিন সেনার। তবে সেই সঙ্গেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি। আমেরিকা যুদ্ধ করতে চাইছে না এই মুহূর্তে। যদি হেগসেথ সতর্ক করে দিয়েছেন ইরানকে। জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, তা এড়াতে তেহরানকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হবে। এরপরই প্রোজেক্ট ফ্রিডম বন্ধ করল আমেরিকা।
