আশঙ্কা সত্যি করে মধ্যপ্রাচ্যে ফের শুরু হয়ে গিয়েছে যুদ্ধ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের এই লড়াইয়ে প্রথম থেকেই পার্শ্ববর্তী দেশগুলিকেও আক্রান্ত হতে হয়েছে। যার মধ্যে কুয়েত, কাতার, বাহরিনের পাশাপাশি রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও। বলা যায়, আরব দেশটিই সবচেয়ে বেশি ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। কিন্তু কেন? সংযুক্ত আরব আমিরশাহীই কেন তেহরানের এই ভয়াল হামলার মুখে পড়ছে?
যদিও ইরানের তরফে এই হামলা নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবু মনে করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপরই ইরানের ক্ষোভই সবচেয়ে বেশি। আসলে গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর নেপথ্যে একটি নয়, একাধিক কারণ রয়েছে। যার মধ্যে অবশ্যই রয়েছে ইরানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ভৌগোলিক দূরত্ব। এবং আরও একটি কারণ, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে আরব দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সেদেশে বহু মার্কিন সেনা ঘাঁটি রয়েছে। তেহরানের একের পর এক হামলার পরে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই হামলা। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও ইজরায়েলের গাঢ় বন্ধুত্বের কথাও সর্বজনবিদিত। ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তি অনুসারে তেল আভিভের আয়রন ডোম নিরাপত্তা দেয় আরব দেশটিকেও। এই পরিস্থিতিতে তাই সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে যে বারবার 'টার্গেট' করবে ইমরান, তা বলাই যায়।
আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের এই লড়াইয়ে প্রথম থেকেই পার্শ্ববর্তী দেশগুলিকেও আক্রান্ত হতে হয়েছে। যার মধ্যে কুয়েত, কাতার, বাহরিনের পাশাপাশি রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও। বলা যায়, আরব দেশটিই সবচেয়ে বেশি ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। কিন্তু কেন?
জানা গিয়েছে, গতকাল, সোমবার ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪টি ড্রোন নিয়ে হামলা চালায় ইরান। রাজধানী ফুজাইরাহর প্রধান তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে শানানো হয় আক্রমণ। তবে ঘটনায় তেল ভাণ্ডারের কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। যদিও এই হামলায় আহত হয়েছে তিন ভারতীয় নাগরিক। এই হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তাঁর এক্স হ্যান্ডলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ফুজাইরাহতে হামলায় তিন ভারতীয় আহত হয়েছেন। এটি নিন্দনীয়। জনবসতি এবং নিরীহ নাগরিকদের উপর আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’
