হঠাৎ এসেছিল জরুরি সংকেত। এরপরই কাতারের আকাশ থেকে উধাও হয়ে গেল আমেরিকার বিমান KC-135 স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার। যার পোশাকি নাম 'ফ্লাইং গ্যাস স্টেশন'। আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় যুদ্ধবিমানগুলিতে জ্বালানি ভরার কাজে ব্যবহৃত হত ১৪৬০০০ কেজি ওজনের বোয়িং বিমানটি। আকাশ থেকে সেটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের অদূরে পারস্য উপসাগরের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় সেটি। অবতরণের আগে বেশকিছুক্ষণ ধরে বৃত্তাকারে উড়ছিল বিমানটি এর মাঝেই পাঠানো হয় জরুরি সঙ্কেত। এরপর ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে শুরু করে বিমান। সূত্রের খবর, বিমানটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল। তবে কী কারণে এই জরুরি অবস্থা তৈরি হল তা এখনও স্পষ্ট নয়। শত্রুর হামলার জেরে এই ঘটনা কিনা তাও জানা যায়নি। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার করেনি।
বিমানটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল। তবে কী কারণে এই জরুরি অবস্থা তৈরি হল তা এখনও স্পষ্ট নয়। শত্রুর হামলার জেরে এই ঘটনা কিনা তাও জানা যায়নি।
বিমান নিখোঁজের এই তথ্য প্রথম প্রকাশ্যে আনে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স। দাবি অনুযায়ী, বিমানটি আমিরশাহীর আলো ধাফরা বিমান ঘাঁটি থেকে ওড়ার পর কাতারের দিকে যাচ্ছিল কাতারের আকাশসীমায় বিমানটির সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে এই ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দুই দেশের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সোমবার থেকে পরিস্থিতি গুরুতর আকার নিয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল ভান্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আহত হয়েছেন তিন ভারতীয় নাগরিক। আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এদিন ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪টি ড্রোন নিয়ে হামলা চালায় ইরান। রাজধানী ফুজাইরাহর প্রধান তেল ভান্ডার লক্ষ্য করে শানানো হয় আক্রমণ। অন্যদিকে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরান। যার পালটা আমেরিকা জানিয়েছে, ইরানের একাধিক ছোট বোট ধ্বংস করার পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতির মাঝে বিমানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকার।
