প্রায় একমাস ধরে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ চলছে। তার আঁচ পড়ছে বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশে। কোনও দেশে আছড়ে পড়েছে, কোথাও শুরু হয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত ইরানের উপর মার্কিন হামলার পর থেকে। কিন্তু সমস্ত কিছুর দায় ঝেড়ে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, প্রতিরক্ষা সচিবের 'উসকানি'তেই ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।
সোমবার একটি বৈঠকে সটান মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের দিকে আঙুল তোলেন ট্রাম্প। যুদ্ধের যাবতীয় দায় হেগসেথের উপর চাপিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "পিট, আমার মনে হয় তুমিই হামলার কথা প্রথম বলেছিলে। ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র এসে যাবে, সেটা তুমি মোটেই চাওনি। তাই সকলের আগে তুমি বলেছিলে, ইরানে হামলা চালানো হোক।" এহেন মন্তব্যের সময় ট্রাম্পের পাশেই বসেছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব। কিন্তু তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বজুড়ে সংকট তৈরি করে কি এখন দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
ইরান যে মধ্যপ্রাচ্যে পালটা আঘাত হানবে, বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট তৈরি করবে সেটাও আমেরিকা আশা করতে পারেনি। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প যথেষ্ট ব্যাকফুটে। সেকারণেই কি হেগসেথকে শিখণ্ডী খাড়া করে দায় এড়াতে চাইছেন?
মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে অনেকেই নাকি ইরানের হামলার বিপক্ষে ছিলেন, এমনটা মত সেদেশের রাজনৈতিক মহলের। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও চাননি বিদেশে হামলা হোক। প্রশাসনের কেউ মনে করেন, আমেরিকা না থাকলেও ইজরায়েল ঠিকই ইরানে হামলা করত। আরেকটি অংশের মতে, ইরানে পরমাণু অস্ত্র তৈরি হওয়া আটকানোর প্রয়োজন ছিল তাই হামলা চালানো হয়েছে। অর্থাৎ কেন হামলা হল, কতদিনের মধ্যে অপারেশন সিংহ গর্জন শেষ করা হবে-আমেরিকার কাছে কোনও বিষয়েই স্পষ্ট ধারণা নেই।
উল্লেখ্য, ইরানে হামলা নিয়ে একেবারে মজার ছলেই ট্রাম্প বলেছিলেন, "আমরা কয়েকদিনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে ঘুরে আসি। একটা বড় সমস্যার সমাধান করে ফেলি।" কিন্তু সেই কয়েকদিনের 'ঘুরে আসা' এখন মাস গড়াতে চলেছে। ইরান যে মধ্যপ্রাচ্যে পালটা আঘাত হানবে, বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট তৈরি করবে সেটাও আমেরিকা আশা করতে পারেনি। একের পর এক শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর পরেও ইরান পালটা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প যথেষ্ট ব্যাকফুটে। সেকারণেই কি হেগসেথকে শিখণ্ডী খাড়া করে দায় এড়াতে চাইছেন?
