ইরান যুদ্ধে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই কাঠগড়ায় তুললেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন কর্তা লিওন প্যানেটা। তিনি জানিয়ে দিয়েছন, ইরান যুদ্ধের জন্য দায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্টই। বর্তমানে তিনি সাঁড়াশি পড়েছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প এমন এক অবস্থায় আটকে পড়েছেন যেখানে তাঁর নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কৌশলগত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে লিওন বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট ট্রাম্পের সৃষ্টি। এটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানতেন, ইরান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করলে বিশ্বে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। অতীতে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে প্রধান সংকটের জায়গা হল হরমুজ প্রণালী। এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। এখানে কোনও জটিল বিজ্ঞান নেই।” বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি আমেরিকার ‘প্রস্তুতির অভাব’ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। লিওনের দাবি, মার্কিন প্রশাসন হয় ইরানকে অবমূল্যায়ন করেছে অথবা তারা ধরে নিয়েছিল যে এই সংঘাতটি দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, “মার্কিন প্রশাসন এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। এই সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয় বরং গোটা বিশ্বে অনুভূত হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, সোমবার ২৪ দিনে পড়েছে ইরান যুদ্ধে। এই লড়াইয়ে ইরান ছারখার হলেও প্রত্যাঘাতে আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে মার্কিন হামলায়। শেষ ২০ দিনের যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ৩টি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও ৬টি কেসি ট্যাঙ্কার ধ্বংস হয়েছে। ইজরায়েলের হাইফা তেল সংশোধনাগারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার ধ্বংস করছে ইরান। হরমুজ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার পেরিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে তোপ দাগলেন প্রাক্তন মার্কিন কর্তা।
