৫ দিনের জন্য ইরানের উপর হামলা স্থগিত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আমেরিকা সাময়িক বিরতি নিলেও থামতে নারাজ ইজরায়েল। সোমবার রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জারি রাখবে তারা। পাশাপাশি হামলা চলবে লেবাননে হেজবোল্লার বিরুদ্ধেও।
সোমবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে এই সংক্রান্ত এক ভিডিওবার্তা পোস্ট করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, 'আজ আমি আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি। উনি বিশ্বাস করেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে আমরা এখনও পর্যন্ত যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছি, তার ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে আমরা আমাদের মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। তবে আমরা ইরান ও লেবানন উভয় দেশের উপর হামলা অব্যাহত রাখছি। ইতিমধ্যেই আমরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করেছি। হেজবোল্লার উপরেও ধারাবাহিকভাবে মারাত্মক আঘাত হেনেছি।'
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু জানিয়ে দিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জারি রাখবে তারা। পাশাপাশি হামলা চলবে লেবাননে হেজবোল্লার বিরুদ্ধেও।
এরসঙ্গেই নেতানিয়াহু যোগ করেন, 'কয়েকদিন আগেই আমরা ইরানের দু'জন পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছি। আমাদের অভিযান এখনও সক্রিয় রয়েছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের স্বার্থরক্ষা করব।' নেতানিয়াহুর এই বিবৃতির অর্থ পরিষ্কার, যে ট্রাম্প থামলেও ইরানের বিরুদ্ধে এখনই যুদ্ধ থামতে নারাজ ইজরায়েল।
এই ঘটনায় ওয়াকিবহাল মহলের মত, আসলে যুদ্ধ শুরু করার সময় ট্রাম্প যেমনটা ভেবেছিলেন বাস্তবে তেমনটা হয়নি। আমেরিকা ভেবেছিল অল্প দিনেই ইরানের কোমর ভেঙে দেওয়া যাবে, এবং আমেরিকার সামনে মাথানত করবে তারা। তবে যুদ্ধের ২৪ দিনেও তা হয়নি বরং ভয়ংকর প্রত্যাঘাত শুরু করেছে তেহরান। আমেরিকাকে বিস্মিত করে ৪০০০ কিলোমিটার দূরে ব্রিটেনের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে হামলা করেছে ইরান।
কূটনৈতিক মহলের দাবি, একদিকে হরমুজ বন্ধের জেরে বৈশ্বিক চাপ, অন্যদিকে ইরানের ভয়ংকর প্রত্যাঘাতের জেরে ট্রাম্প এখন যুদ্ধ থেকে বেরনোর রাস্তা খুঁজছেন। এরই ফলস্বরূপ ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে ইতিবাচক কথা হয়েছে। তিনি মার্কিন সেনাকে নির্দেশ দিয়েছেন, “আগামী পাঁচদিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সামরিক হামলা স্থগিত থাকবে।” যদিও এই ধরনের কোনও আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।
