'তুমি হদ্দ বোকা। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। ধন্যবাদ।', সাক্ষাৎকার চলাকালীন মহিলা সঞ্চালিকার সঙ্গে বচসার জেরে মাইক ছুড়ে ফেলে বেরিয়ে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কড়া প্রশ্নের মুখে ট্রাম্পের এহেন আচরণের ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল সোশাল মিডিয়ায়। যেখানে ওই মহিলা সঞ্চালিকার উপর রীতিমতো চোটপাট করতে দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে।
জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'মিট দ্য প্রেস'কে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানেই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প (Donald Trump)। এর পালটা সঞ্চালিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার বলেন, 'যদি জালিয়াতি হয়ে থাকে তবে প্রমাণ দিন।' এতেই মেজাজ হারিয়ে গলা চড়াতে শুরু করেন ট্রাম্প। বলেন, "প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। ২০২০ সালের ওই নির্বাচন কারচুপির আখড়া ছিল। ভোট গ্রহণের ৬ দিন পরও ক্যালিফোর্নিয়াতে ভোট গণনা হয়নি। এই ঘটনাই প্রমাণ করে ওখানে কারচুপি চলছিল। আপনার কী মনে হয় নির্বাচনের এতদিন পর জয়ীর নাম না ঘোষণা করাটা ন্যায্য?"
ট্রাম্প বলেন, "প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। ২০২০ সালের ওই নির্বাচন কারচুপির আখড়া ছিল। ভোট গ্রহণের ৬ দিন পরও ক্যালিফোর্নিয়াতে ভোট গণনা হয়নি।"
এই প্রশ্নে সঞ্চালিকা বলেন, "নির্বাচনী আধিকারিকরাই জানিয়েছিলেন, ওখানে ভোট গণনা প্রক্রিয়া ধীর ছিল। কারণ ওখানে ডাকযোগে ভোটারদের ব্যালট পাঠানো হয়। এরপর সেই প্রক্রিয়াতেই তা ফেরত আসে। যার জেরে কিছুটা দেরি হয় গণনায়।" একথা শুনে ক্রিস্টেনকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, 'না ওরা আসলে অসৎ, আপনার মতোই অসৎ। আপনাদের এনবিসি অসৎ। বিবিসি, সিবিএস, সিএনএন- সবাই একপেশে এবং অসাধু সংবাদমাধ্যম।'' পালটা ক্রিস্টেন বলেন, ''আমি অসৎ নই।" এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প বলেন, "আপনি অসৎ না হলে আপনি নির্বোধ।" এরপর মাইক্রোফোন ছুড়ে ফেলে সঞ্চালিকাকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, "এখানেই তবে শেষ করা যাক। যথেষ্ট হয়েছে। ধন্যবাদ ডার্লিং। ভালো থাকবেন।" বলেই সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যান ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হারতে হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এই ঘটনায় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। অভিযোগ তাঁরই ইন্ধনে ক্যাপিটাল হিলসে হামলা চালায় ট্রাম্প সমর্থকরা। পরে তাঁদের কড়া পদক্ষেপ করে বাইডেন সরকার। পরের নির্বাচনে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট। গঠন করা হয় তহবিল। যা নিয়ে একবার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন ট্রাম্পকে। পালটা কড়া সুরে ওই সাংবাদিককে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'চুপ থাকুন।'
