হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে আমেরিকার দখলে। বুধবার এমনটাই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ওই জলপথ ঘিরে লোহার দেওয়াল গড়ে তুলেছে মার্কিন নৌবাহিনী। কোনওভাবেই তা ভেদ করতে পারবে না ইরান। নিজের সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, 'আল্লার গৌরব হোক'। উল্লেখ্য, দিনদুয়েক আগেই শোনা গিয়েছিল, হরমুজ দখলের জন্য ২০টি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে আমেরিকা। সেই অভিযান সফল হয়েছে বলেই দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ। শোনা যাচ্ছিল, শান্তি ফেরাতে দুই দেশই অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু সেই জল্পনা উড়িয়ে হরমুজ প্রণালীতে সংঘাতের মেঘ ঘনায়। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর তরফে জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য এবং তেহরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরও জোরদার করার জন্যই মধ্যপ্রাচ্যে ২০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে। ইরানের বন্দর ছেড়ে আসা সমস্ত জাহাজ আটকাতেই প্রণালী ঘিরে ফেলার উদ্যোগ নেয় মার্কিন সেনা।
এই অভিযানে আমেরিকা সাফল্য পেয়েছে বলেই দাবি ট্রাম্পের। নিজস্ব সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, 'হরমুজ প্রণালী এখন পুরোপুরি আমেরিকার দখলে। মনে হয় ওই এলাকা আমাদের হাতেই থাকবে। ইস্পাতের দেওয়াল গড়ে ফেলেছি। ইরান কিচ্ছু করতে পারবে না। ওদের নৌসেনা, বায়ুসেনা কিছুই নেই। পয়সা নেই, সেনাকে বেতন দিতে পারছে না। খালি ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে আর ওদের দেশে মূল্যবৃদ্ধি বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ওদের দাদাগিরি আর নেই, আল্লার গৌরব হোক।' যদিও এই নিয়ে তেহরানের তরফ থেকে এখনও কিছু বলা হয়নি।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে থেকেছে হরমুজ প্রণালী। জাহাজ চলাচল বন্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর চাপ বাড়িয়েছে তেহরান। এখনও পর্যন্ত ইরানের তরফেও হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, আমেরিকা যতক্ষণ না তাদের আচরণ সংশোধন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ খোলা হবে না। এহেন পরিস্থিতিতেই ট্রাম্পের ঘোষণা, হরমুজ এখন আমেরিকার দখলে। সেক্ষেত্রে ইরানের অবরোধ আদৌ কার্যকর হবে কি?
