ইরানে নতুন করে হামলার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবারই ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে প্রস্তাব আনা হয়েছিল। শেষপর্যন্ত ভোটাভুটি স্থগিত রাখা হলেও রিপাবলিকান পার্টির একাধিক সাংসদ বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছিল। কিন্তু এরপরও ভ্রূক্ষেপ নেই ট্রাম্পের। তিনি ফের নতুন করে হামলার কথা ভাবছেন বলেই দাবি মার্কিন আধিকারিকদের। 'অ্যাক্সিওস'-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে এই দাবি করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যদি কোনও ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটাতে ব্যর্থ হয়, চাহলে নতুন করে সামরিক হামলার পথেই হাঁটবে ওয়াশিংটন। আপাতত পুরো বিষয়টি তিনি ‘গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা’ করছেন বলেই প্রতিবেদনের দাবি। শুক্রবার সকালে এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানেই এই পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এদিকে আমেরিকায় ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়মিত সমালোচিত হচ্ছে। আর সেই কারণেই মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষে ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব করতে পেশ হয়েছিল প্রস্তাব। আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী, কোনও যুদ্ধ শুরু হলে এবং সেই যুদ্ধ জারি রাখতে হলে ৬০ দিনের মধ্যে সেনেটের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। যদিও ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে কিছুটা কারসাজি করেছিলেন ট্রাম্প। সেটা ভালোই বুঝছেন তিনি। তবু নিজের মনোভাবে অনড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই অবস্থায় সেনেটে ভোটাভুটির মুখোমুখি হওয়া মানে যুদ্ধ থামানোর পথে হাঁটতে হতে পারে ট্রাম্পকে। যা কোনওভাবেই চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে ইরানকে যে প্রস্তাব আমেরিকা দিয়েছিল তা খারিজ হয়েছে। স্পষ্টভাবে ইরান জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা ইউরেনিয়াম কোনওভাবেই আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হবে না। ফলে নতুন করে ইরানে হামলার সম্ভাবনা বাড়ছে।
