আফ্রিকায় ক্রমেই বাড়ছে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এই পরিস্থিতিতে স্থগিত করা হল ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫৪ জন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যে কোনও ধরনের ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করেই তা বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা যাচ্ছে এখনও পর্যন্ত ইবালোর দাপট কঙ্গো এবং উগান্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে শয়ে শয়ে মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরিস্থিতিকে 'আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে আপাতত সম্মেলন হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, পারস্পরিক সুবিধা ও আলোচনার ভিত্তিতে এই সম্মেলনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে, যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
এই সম্মেলনে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫৪ জন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যে কোনও ধরনের ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করেই তা বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দু’বার ইবোলা ভাইরাসের কোপে পড়েছে কঙ্গো। প্রথমে ২০১৮ সাল, এরপর ২০২০ সাল। এই দুই দফায় অন্তত ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল কঙ্গোতে। পাশাপাশি এই সময়কালে গোটা দেশে আরও অন্তত ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। মারণ এই ভাইরাসকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক ভাইরাস হিসেবে গণ্য করা হয়। ইবোলায় আক্রান্তের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়। এই অসুখের প্রাথমিক লক্ষ্মণ হল ডায়েরিয়া ও রক্তপাত। জানা যায়, পূর্ব আফ্রিকায় ১৯৬৭ সালে এই ভাইরাস থাবা বসিয়েছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু মানুষ। এরপর পশ্চিম আফ্রিকা হয়ে মধ্য আফ্রিকায় ফের নতুন করে এই ভাইরাসের হদিশ মেলায় বাড়ছে উদ্বেগ।
