যৌনসম্পর্ক নিয়ে হাজারও সামাজিক ট্যাবু রয়েছে গোটা বিশ্বে। ইদানীংকালে লিভ-ইন সম্পর্ক ধর্ষণের আইনে জটলিতাকে বাড়িয়েছে। এই অবস্থায় হিমালয়ের দেশ নেপাল বৈপ্লবিক কাণ্ড করতে চলেছে। একটি নতুন আইন এনে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে যৌনসম্পর্কে সিলমোহর দিতে চলেছে দেশটি। বিষয়টি সামনে আসতেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
নেপালের বর্তমান আইনে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও কিশোর বা কিশোরীর মধ্যে কোনও ধরনের যৌনসম্পর্ককে ধর্ষণ হিসাবে গণ্য করা হয়। পারস্পরিক সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সম্মতি থাক বা অসম্মতি নাবালকদের শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণের পর্যায়েই ফেলা হয়। এদিকে নেপালে বিয়ের বয়স ২০ বছর। দেশের যুবসমাজ বহুবার প্রশ্ন তুলেছে, ১৮ বা ১৯ বছরে যৌন সম্পর্কে আইন সম্মতি থাকলে ওই বয়সে বিয়ে করা যাব না কেন? এবারে সেই জটিলতার অবসান হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারণ জেন-জি বিপ্লবে ক্ষমতায় আসা নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ঐতিহাসিক আইন লাগু করতে চলেছেন। সমবয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্মতিতে হওয়া যৌনসম্পর্ককে অপরাধ হিসাবে গণ্য করতে চায় না তাঁর সরকার। ফলে আইনে একসঙ্গে দু'টি সংশোধন আসতে চলেছে। প্রথমত, পারস্পারিক সম্মতিতে কিশোর-কিশোরীর মধ্যে যৌনসম্পর্ক আর ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না। দ্বিতীয়ত, আইনি বিবাহের বয়স ২০ থেকে কমিয়ে আনা হবে ১৮-তে।
ইতিমধ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনে গঠিত একটি টাস্ক ফোর্স সুপ্রিম কোর্ট এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দুই সংশোধন প্রস্তুত করে ফেলেছে। যা বর্তমানে মন্ত্রিসভা পর্যালোচনা করে দেখছে। নতুন ধারার প্রস্তাবিত নাম 'রোমিও-জুলিয়ট'। এই ধারার বলে যদি সম্পর্কে জড়িত দু’জনেরই বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হয়, তবে তাদের পারস্পরিক সম্মতিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
তবে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন আইন ঢালাও শারীরিক সম্পর্কে ছাড় নয়। কোনও পক্ষকে জোরজুলুম করে, ব্ল্যাকমেল কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার বা আর্থিক লেনদেন (শোষণ) বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক হলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। নতুন সরকার এর পক্ষে হলেও প্রাচীনপন্থীরা বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না। 'হটকারী' সিদ্ধান্ত নিতে বারণ করছেন তাঁরা।
