shono
Advertisement
Donald Trump

'আমি স্বৈরাচারী, কিন্তু...', একনায়ক শাসকের গুরুত্ব বোঝালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

কঠোর অভিবাসী নীতি, লাগামহীন শুল্ক আরোপ, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সমর্থন', হামাসকে শায়েস্তা করতে গাজার দখল নেওয়া, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ, বছর শেষে ইরান এবং গ্রিনল্যান্ডকে হুমকি। গত এক বছরের শাসনকালে ট্রাম্পের একনায়ক চরিত্রই দেখেছে বিশ্ব।
Published By: Kishore GhoshPosted: 12:16 PM Jan 22, 2026Updated: 01:13 PM Jan 22, 2026

২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয় দফায় এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যখন তাঁর গত এক বছরের আগ্রাসী কাজ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে গোটা বিশ্বে। ঠিক সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই বললেন, "আমি স্বৈরাচারী শাসক, যদিও কখনও কখনও একনায়কের প্রয়োজন হয়!" বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে একটি বাণিজ্য সম্মেলনে অংশ নিয়ে একথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement

কঠোর অভিবাসী নীতি, লাগামহীন শুল্ক আরোপ, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার দাবি, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সমর্থন', হামাসকে শায়েস্তা করতে গাজার দখল নেওয়া, শান্তি কমিটি স্থাপন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ, বছর শেষে ইরান এবং গ্রিনল্যান্ডকে হুমকি। ট্রাম্পের গত এক বছরে উত্তেজক ঘটনার ঘনঘটা দেখেছে গোটা বিশ্ব। সব ক্ষেত্রেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'একনায়ক' মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বছরশেষে ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টেকে যেভাবে অপহরণ করেছে মার্কিন সেনা, তা নিয়ে সমলোচনায় মুখর রাশিয়া, চিন-সহ বিশ্বের একাধিক দেশ। অভিযোগ, একটি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত এনেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। সেকথা কার্যত মেনে নিলেন ট্রাম্প।

বারবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'একনায়ক' মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার প্রথমে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) বক্তৃতা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর পর একটি ঘরোয়া বাণিজ্য সম্মেলনে ভাষণ দেন। সেখানে ট্রাম্প দাবি করেন, ডব্লিউইএফ-এ তাঁর বক্তৃতা পছন্দ হয়েছে উপস্থিত শিল্পপতি, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি গোষ্ঠীর কর্তাদের। বলেন, "আমাদের বক্তৃতাটা ভালো ছিল। দারুণ প্রশংসা পেয়েছি। বিশ্বাসই হচ্ছে না।" এর পরই ট্রাম্প জানান, তাঁকে সাধারণত ভয়ঙ্কর স্বৈরাচারী শাসক বলা হয়। মন্তব্য করেন, "আমি স্বৈরাচারী শাসক, কিন্তু মাঝেমাঝে একজন একনায়কের প্রয়োজন হয়।”

আমেরিকার প্রয়োজনকে আগে গুরুত্ব দেবেন (America First), তার পরে অন্য দেশের কথা ভেবে দেখবেন। এটিই ট্রাম্পের ঘোষিত নীতি। আমেরিকাকে ফের 'সকল দেশের সেরা' বানানোর 'জাতীয়তাবাদী' প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন ধনকুবের রাষ্ট্রপ্রধান। সেই পথে হেঁটে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর লাগামহীন শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। একই কারণে এনেছেন কঠোর অভিবাসী নীতি। গত এক বছরে ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষকে আমেরিকা থেকে তাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে ৩, ৮১২ জন ভারতীয়। এইচ১বি ভিসা নিয়েও কড়কড়ি শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। এখনেই শেষ নয়, গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়ানোয় ইউরোপের আট দেশের উপর অতিরিক্তি ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন।

একটি বিষয় স্পষ্ট যে কোনও প্রতিবাদ, ন্যায়-অন্যায়কে রেয়াত করতে রাজি নয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন আধিপত্যবাদই একমাত্র লক্ষ্য। ট্রাম্পের কথা অনুযায়ী, কখনও কখনও এমন স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশ্ন হল, কার জন্য? এতে আদৌ জগতের মঙ্গল হবে?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement