ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলের ভাণ্ডার দখল করবে আমেরিকা! আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, এবার তেমনই ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাবি করা হয়েছে, আধিকারিক পর্যায়ে এই বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে হোয়াইট হাউসে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনই এই ইস্যুতে খোলাখুলি কথা বলতে নারাজ।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পরই তেহরানের অভিযোগ ছিল, আমেরিকা গোটা বিশ্বের তেল ভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ চায়। যার জেরেই ইরানের উপর হামলা চালানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার পর ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ পেলে গোটা বিশ্বের ৩১ শতাংশ তেলের নিয়ন্ত্রণ ওদের হাতে চলে আসবে। এটাই যুদ্ধের মূল কারণ। যদিও যুদ্ধের শুরুতে আমেরিকার দাবি ছিল, বন্ধু ইজরায়েলের স্বার্থেই এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছে তারা।
ট্রাম্প বলেন, "আপনারা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি দেখেছেন। ফলে মানুষ এই ধরনের কিছু ভাবনাচিন্তা করছেন। তবে এখনই এই বিষয়ে কিছু বলতে যাওয়াটা বড্ড তাড়াহুড়ো হবে।"
তেলের ভাণ্ডার দখল প্রসঙ্গে ট্রাম্প খোলাখুলি কথা বলতে রাজি না হলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আধিকারিকদের সঙ্গে এই ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনায় ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। এরপরই সংবাদমাধ্যমকে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, "আপনারা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি দেখেছেন। ফলে মানুষ এই ধরনের কিছু ভাবনাচিন্তা করছেন। তবে এখনই এই বিষয়ে কিছু বলতে যাওয়াটা বড্ড তাড়াহুড়ো হবে।"
ইরানের তেলের দখল নিয়ে আপাতত ট্রাম্প মুখে কুলুপ আটলেও ইতিহাস কথা বলে। অতীতে ইরাক-সহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের তেল ভাণ্ডারকে নিয়ন্ত্রণ করেছে আমেরিকা। ইরানও তার ব্যতিক্রম ছিল না। আমেরিকার তেল আগ্রাসনের শেষতম নজির ভেনেজুয়েলা। যুদ্ধের মাঝে ইজরায়েল ইরানের তেল ডিপোতে হামলা চালানোয়, এই ঘটনার নিন্দায় সরব হন ট্রাম্প। স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেন, ''এমন হামলা মোটেও ভালো লাগছে না।'' ইজরায়েলি সেনার এক সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটনের তরফে তাদের উদ্দেশে বার্তা পাঠানো হয়, ''WTF''। এমন অশ্লীল প্রতিক্রিয়াই নাকি জানিয়েছিল তারা।
এদিকে যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাজারে বাড়তে থাকা তেলের দাম প্রসঙ্গে সোমবার মুখ খুলেছে হোয়াইট হাউস। যেখানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন জ্বালানি দপ্তর এই সংকট মোকাবিলা ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছে। সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। জ্বালানির বাজারকে স্থিতিশীল করতে মার্কিন প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। যে সমস্যা চলছে তা সাময়িক। অল্প দিনেই সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন অল্প দিনে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, নাকি ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলও কুক্ষিগত করবে আমেরিকা, সেদিকেই নজর বিশ্বের।
